ভুয়া কাবিননামা, নকল রেজিস্টার বই ও প্রতারণার অভিযোগে চাঞ্চল্য
গাইবান্ধায় কাবিননামা বিকৃতি, নকল রেজিস্টার বই ব্যবহার এবং বিয়ে রেজিস্ট্রিতে প্রতারণার অভিযোগে এক কাজীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম মোঃ আব্দুল গোফফার আকন্দ, যিনি গাইবান্ধা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের ডেভিড কোম্পানি পাড়া এলাকায় একটি মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রেশন অফিস পরিচালনা করে আসছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই কাজী অফিসের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, জাল-জালিয়াতি এবং ভুয়া কাবিননামা তৈরির অভিযোগ উঠছিল। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি অনুমোদন ও বৈধ নথিপত্রের তোয়াক্কা না করে কিছু অসাধু কাজী অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ভুয়া কাবিননামা তৈরি করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। এতে নিম্নআয়ের ও সাধারণ পরিবারগুলো বিয়ে সংক্রান্ত জটিলতা ও মামলা-মোকদ্দমায় পড়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ভুক্তভোগী গাইবান্ধা সদর উপজেলার কোমরপুর এলাকার বাসিন্দা মোছাঃ রিক্তা আক্তার শিখা অভিযোগ করেন, গত ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বোয়ালী ইউনিয়নের নশরৎপুর গ্রামের মোঃ শরিফ আল কামালের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় ১০ লক্ষ টাকা। কিন্তু পরে কাবিননামার কপি চাইলে কাজী বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে গত ৩ মে তিনি গাইবান্ধা পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে কাজীর কাছে মূল কাবিননামা উপস্থাপন করতে বলা হলে তিনি ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা দেনমোহর উল্লেখ করা একটি কাবিননামা দেখান। ভুক্তভোগীর দাবি, এটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং প্রকৃত কাবিননামা গোপন করে প্রতারণার উদ্দেশ্যে জাল নথি তৈরি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, তার স্বামীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে মূল ১০ লক্ষ টাকার কাবিননামার পরিবর্তে কম টাকার ভুয়া কাবিননামা তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবাদ করলে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে কাজী অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গাইবান্ধা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে ১৪ মে ২০২৬ তারিখে পুলিশ অভিযুক্ত গোফফার কাজী ও সংশ্লিষ্ট আরেকজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে।
গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, জেলার কিছু অসাধু কাজী একই সঙ্গে একাধিক কাবিননামা রেজিস্টার বই ব্যবহার করে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন প্রেস বা ছাপাখানা থেকে অবৈধভাবে নকল রেজিস্টার বই তৈরি করে এসব জাল কাবিননামা প্রস্তুত করা হয়। পরবর্তীতে কোনো বিরোধ বা আইনি জটিলতা দেখা দিলে প্রকৃত কাগজপত্র গোপন করে ভুক্তভোগীদের হয়রানির মুখে ফেলা হয়।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের প্রতারণা শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, সামাজিক ও পারিবারিক অস্থিরতারও বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধ কাবিননামা সিন্ডিকেটের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।