ইরান থেকে তেল আমদানির দায়ে অভিযুক্ত চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং বিশ্ব তেল বাজারে অস্থিরতা নিরসনের লক্ষ্যে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।
শুক্রবার চীন সফর শেষে দেশে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে বেইজিং তেহরানের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি কারও কাছে কোনো অনুগ্রহ প্রার্থনা করছেন না। কারণ কারও কাছ থেকে সুবিধা নিলে বিনিময়ে তাকেও সুবিধা দিতে হয়। তবে ট্রাম্পের মতে, শি জিনপিং নিজেই প্রণালিটি সচল দেখতে চান। কারণ, চীনের জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ পারস্য উপসাগর থেকে মেটানো হয়। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের সেখানে কোনো নির্ভরতা নেই দাবি করে ট্রাম্প বলেন, আমেরিকার ওই তেলের প্রয়োজন নেই।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ইরান বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর অন্যতম, যারা দৈনিক গড়ে প্রায় ১৬.৯ লাখ ব্যারেল তেল রফতানি করে। মার্কিন সরকারের তথ্যমতে, ইরানের মোট তেল রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশই যায় চীনে।
যদিও বেইজিং আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান থেকে তেল আমদানির বিষয়টি স্বীকার করে না এবং অনেক ক্ষেত্রে তেলের উৎস গোপন রাখতে মালয়েশিয়া বা অন্য দেশের নাম ব্যবহার করে, তবু তারা শুরু থেকেই ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে আসছে। এখন ট্রাম্পের এই নতুন অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স