July 29, 2026, 4:27 pm
শিরোনাম:
গঙ্গাচড়ায় গর্তে রাস্তার বেহাল অবস্থা, দ্রুত সংস্কারের দাবি গাইবান্ধায় আড়াই বছর ধরে আটকে রয়েছে ৭টি সেতুর কাজ, ৪টি সেতুর কাজ শুরু হয়নি রামগতিতে পানির লাইন খুঁড়তে মিলল তিনটি মর্টার শেল সদৃশ বস্তু নীলফামারীতে র‍্যাব-১৩ এর উদ্যোগে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সুধী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দিনাজপুর পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ে “নাগরিক ভাবনাঃ আমাদের করণীয়” শীর্ষক নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের নবনিযুক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আকরাম এলাহী মাদকবিরোধী অভিযানে কৃতিত্বের স্বীকৃতি, সম্মানিত রাঙ্গামাটি পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন আলমগীর শরীয়তপুরে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ আটক ৩ জাপানে ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ১৩, চলছে উদ্ধার অভিযান জেন জি’রা আসছে, সাবধান ভারত

সুন্দরগঞ্জে জমি বদল না দেওয়ায় মিথ্যা মামলার অভিযোগ এক নি:সন্তান বৃদ্ধের

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে রাস্তা সংলগ্ন ৫ শতক জমি অদল-বদল না করায় ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের কাজে বাঁধা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ফলে বার্ধক্যজনিত নানা রোগের চিকিৎসা ও সাংসারিক ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন নি:সন্তান ওই বৃদ্ধ দম্পতি। চান সমাধান।

জানা যায়, পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হুড়াভায়া খাঁ গ্রামের নুরুল ইসলামের অপর দুই ভাই (আব্দুল মতিন ও আবুল হোসেন মন্টু) আজিজার রহমান নামক এক ব্যক্তির নিকট জমি বিক্রি করলেও তা বিক্রি করেননি তিনি। কিন্তু উত্তর পাশের জমিটিও নিজের হওয়ায় নি:সন্তান নুরুল ইসলামের বাড়ি সরিয়ে দিয়ে প্রায় ৩ দশক আগে তা দখলে নেন আজিজার রহমান। পরে আর যাতে কেউ হয়রানি করতে না পারেন, সেজন্য ২০১২ সালের দিকে অন্য অংশীদার ও ক্রেতাদের বিরুদ্ধে সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধায় একটি বাটোয়ারা মামলা করেন বৃদ্ধ নুরুল ইসলাম। পরে ২০১৬ সালে আদালতের দেওয়া রায় অনুযায়ী নির্ধারিত জমি ভোগ করে আসছেন তিনি।
সম্প্রতি বার্ধক্যজনিত নানা রোগের চিকিৎসা এবং সংসারের ব্যয় মেটাতে নিজের ভোগদখল করা জমির ৫ শতাংশ বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন বৃদ্ধ নুরুল ইসলাম। এজন্য একটি বায়না দলিলও করে দেন উপজেলার পূর্ব বৈদ্যনাথ গ্রামের আব্দুর রহিম নামের এক ব্যক্তিকে। কিন্তু ঘটনার মোড় নেয় ক্রেতা বায়নাকৃত জমিতে বাড়ি করতে গেলে। কাজে বাধা দেন মৃত আজিজার রহমানের ছেলে ফারুক, মেয়ে ফেরদৌসী বেগমসহ অন্যরা। ট্রিপল ৯-এ ফোন দিয়ে আনেন পুলিশ। বিষয়টির সমাধানে কাজ বন্ধ করে দুই পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে থানায় ডাকেন তারা। নুরুল ইসলাম প্রয়োজনীয় আদালতের দেওয়া রায়ের কপি ও অন্যান্য কাগজপত্র নিয়ে থানায় হাজির হলেও তালবাহানা করেন মৃত আজিজার রহমানের ছেলে-মেয়েরা। পরে গত ২০ এপ্রিল বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, গাইবান্ধায় মামলা দায়ের করেন মৃত আজিজার রহমানের মেয়ে ফেরদৌসী বেগম।
এদিকে, ওই ৫ শতক জমি বিক্রি করতে না পেরে চিকিৎসা ও সাংসারিক ব্যয় মেটাতে পারছেন না বৃদ্ধ নুরুল ইসলাম দম্পতি। সবার সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, “আমার কোনো সন্তানাদি নেই। স্বামী-স্ত্রী আমরা দুইজনেই অসুস্থ। সারা বছর ওষুধ খেতে হয়। গায়ে শক্তি নাই, কাজও করতে পারিনা। তাই আমার ভোগ-দখলকরা জমির ৫ শতক বিক্রি করতে বায়না দলিল করে দিয়েছি। বাটোয়ারা মামলার রায় পেয়েছি প্রায় ১০ বছর হলো। নকশাও করে দিয়েছে আদালত। ঢোল পিটিয়ে গেছে। এর আগে আমি কোনো জমি বিক্রি করি নাই। আমার ভাইয়েরা বিক্রি করছে। তারপরও প্রায় ৩০ বছর আগে আজিজার আমার বাড়িঘর ভাংগতে বললে আমি বাড়িঘর ভেঙে জমি ছেড়ে দেই। সেই জমি এখনো তারা আবাদ করে খায়। আগে ওই জমির সাথে তার জমি ছিল। সেই জন্য তখন বাড়ি সরিয়ে দিয়ে জমি বের করে নিয়েছে। এখন রাস্তা পাকা ও জমির দাম বাড়ায় আবার আমার দখলে থাকা জমি বিক্রি করতে নিষেধ করছে। কাজে বাধা দিচ্ছে। জমি অদল-বদল করতে চায়। আমি মানি নাই। তাই ৯৯৯-এ কল দিয়ে পুলিশও নিয়ে এসেছিল। কাগজপত্র থানায় নিয়ে গেলে তালবাহানা করে। এখন মামলা দিয়ে আমার মতো নি:সন্তান বৃদ্ধকে হয়রানি করছে। আমি গরীব মানুষ। জমি বিক্রি করতে না পারলে আমরা স্বামী-স্ত্রী চিকিংসা ও ওষুধ খাব কেমনে! বাঁচবো কীভাবে? সহযোগিতা চাই সবার।”

সালমা আক্তার নামের এক নারী তার গরু-বাছুর বাধার উঠোন দেখিয়ে বলেন, “এই জমি মৃত আজিজার রহমানের। আগে ছিল নুরুল ইসলামের ভাইদের। আদি করছিলাম। বিক্রিও করতে চাইছিল আমাদের কাছে।”
নুরুল ইসলামের ভাতিজা খাজা মিয়া বলেন, আমার বাবা ও অন্য চাচা জমি বিক্রি করলেও নুরুল চাচা কোনো জমি বিক্রি করে নাই। ওই ৫ শতক জমি দেখিয়ে তিনি আরো বলেন, এই জমি নুরুল ইসলামের। তাছাড়া আজিজারের ছেলে-মেয়েরা তো কেনা জমি আবাদও করে। কিন্তু সন্তান নাই আর গরীব। দামও বাড়ছে জমির। এজন্য বহু বছর পরে আবার তার ওপর এতো অত্যাচার করছে। এর ন্যায় বিচার হওয়া দরকার।

এদিকে, অন্য জমি চাষাবাদ করার বিষয়টি অস্বীকার করে আজিজার রহমানের ছেলে ফারুকুল ইসলাম বলেন, বাটোয়ারা মামলা করেছেন তিনি আমাদের জমি কেনার পর। আর আদালত এক তরফা রায় দিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *