রংপুর নগরীর একটি হোটেলের ছাদ থেকে পড়ে নুজসাত জাহান (১৮) নামে এক কলেজ ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আজ ২২ জুন সোমবার বিকাল পৌঁনে ৬টার দিকে নগরীর সেন্ট্রাল রোডের হোটেল নর্থভিউয়ের ছাদ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়। নিহত নুজসাত জাহান নগরীর খলিফাপাড়া এলাকার নজরুল ইসলামের মেয়ে। রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে চলতি বছর তার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। নুজসাতের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে মাঠে কাজ করছে ডিবি পুলিশসহ সিআইডির টিম। সোমবার সন্ধ্যায় রংপুর মেট্রোপলিটন উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সোমবার বিকালে নুজসাত একাই নর্থভিউ হোটেলে আসে। তিনি লিফটে করে সোজা ছাদে চলে যান। নর্থভিউয়ের সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা যায়, বিকাল ৪টা ৫৪ মিনিটে নুজসাত জাহান হোটেলের ছাদে ওঠেন এবং রাস্তার বিপরীত দিকে মুখে করে একাই রেলিংয়ের ছাদে বসে ছিল। সনাতন চক্রবর্তী বলেন, উল্টোভাবে রেলিংয়ে বসে থাকা অবস্থায় নুজসাত নিচে পড়ে যান। এসময় স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে ভিড় করে। ঘটনাস্থল ডিবি কার্যালয়ের বিপরীত পাশে হওয়ায় পুলিশ তাৎক্ষণিক সেখানে উপস্থিত হয়। ঘণ্টাখানেক পর একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে রাস্তার বিপরীত দিকে থাকা ডিবি কার্যালয়ে মরদেহটি নিয়ে যায় পুলিশ। তিনি বলেন, কেন নুজসাত জাহান ছাদে গিয়েছিল, তার মৃত্যুর ঘটনার সাথে কোনো অপরাধ জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা হোটেল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে জেনেছি তিনি হোটেলে যাননি। ঘটনাটি তদন্তে পিবিআই ও সিআইডি টিম কাজ করছে। নুজসাতের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

রংপুরে তিন ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ৪ লক্ষ টাকা জরিমানা
রংপুর ব্যুরো: রংপুর নগরীর বিভিন্ন ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আজ ২২ জুন সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. মো. ইব্রাহিম টিটনের নেতৃত্বে নগরীর ধাপ ও চেকপোস্ট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নিবন্ধন না থাকা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে ল্যাব এইড ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমকে এক লক্ষ টাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ চেতনানাশক ঔষধ ব্যবহার করার অভিযোগে ফাস্ট কিউর স্পেশালাইজড হসপিটাল অ্যান্ড ট্রমা সেন্টারকে দুই লক্ষ টাকা, আমার দেশ হাসপাতালকে এক লক্ষ টাকা জরিমানাসহ বেশ কিছু হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে সতর্ক করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. মো. ইব্রাহিম টিটন বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশনায় রংপুরের বেসরকারি হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে ৩টি ক্লিনিক-হাসপাতালে লাইসেন্স না থাকাসহ নানা অসঙ্গতি পাওয়ায় জরিমানা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে রংপুরের গণমাধ্যম, সচেতন নাগরিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সেবা নিশ্চিতে অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা স্থানীয় প্রশাসনকে দেওয়া হবে। এসময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. এসএম মাহমুদুর রশিদ, মেডিকেল অফিসার ডা. হাফিজুর রহমান, রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের কর্মকর্তা ডা. ফিরোজ হাসান খান, সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা ও মেডিকেল অফিসার ডা. অর্নিবান মল্লিক উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত আরাসহ সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকর্তারা।