June 22, 2026, 10:47 pm
শিরোনাম:
‎সিরাজগঞ্জে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষ বিতরণ,কবিতা আবৃত্তি,চিত্রাঙ্কন ও পুরস্কার বিতরণ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী রবীন্দ্র ও নজরুল জয়ন্তী শুরু রংপুরে হোটেলের ছাদ থেকে পড়ে কলেজ ছাত্রীর মৃত্যু গাইবান্ধায় শিবির নেতা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্তদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ময়মনসিংহে গুজব প্রতিরোধে সরকারি প্রতিষ্ঠানের করণীয় শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত শরীয়তপুর সদর উপজেলায় গ্রাম আদালত বিষয়ক ভিডিও শো ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত চৌদ্দগ্রামে জামায়াতের অর্থায়নে সড়ক সংস্কার কাজের উদ্বোধন চান্দিনায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৫ নেতা-কর্মী গ্রেফতার পাইকগাছা কপোতাক্ষ নদের স্রোতে নিখোঁজ শ্রমিক, চলছে উদ্ধার অভিযান ছাত্রলীগ কর্মি ডিবি পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু মধুখালীতে জানাজায় মানুষের ঢল-সড়ক অবরোধ

ময়মনসিংহে গুজব প্রতিরোধে সরকারি প্রতিষ্ঠানের করণীয় শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

মকবুল হোসেন, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহে গুজব প্রতিরোধে এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন অনুসরণে তথ্য পরিবেশনায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের করণীয় বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ২২ জুন সোমবার বিকেলে ময়মনসিংহ আঞ্চলিক তথ্য অফিসের আয়োজনে অফিসের সম্মেলনকক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

আঞ্চলিক তথ্য অফিস, ময়মনসিংহের উপপ্রধান তথ্য অফিসার (রুটিন দায়িত্ব) মোঃ মাসুদ মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড বিভাগীয় কার্যালয়, ময়মনসিংহের পরিচালক (উপসচিব) ড. মুহাম্মদ মফিজুল ইসলাম, ময়মনসিংহ বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক মীর আকরাম উদ্দীন আহম্মদ, ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল কাইয়ুম প্রমুখ।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ময়মনসিংহ আইসিটি অধিদপ্তরের প্রোগ্রামার মোঃ জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে তথ্য যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো তথ্য প্রচার করা হলে তা দ্রুত গুজবে পরিণত হতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে ভুয়া ছবি, ভিডিও ও তথ্য তৈরি করা সম্ভব হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তথ্য ব্যবহারে আরও সতর্ক হতে হবে। তিনি তথ্যের উৎস যাচাই, সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল তথ্য প্রচারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক বলেন, গুজব প্রতিরোধে সচেতনতা ও তথ্য যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো তথ্য নিশ্চিত না হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা গণমাধ্যমে প্রচার করা উচিত নয়। বিশেষ করে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে। বর্তমানে বিভিন্ন মাধ্যমে মানুষকে নানা বিষয়ে মন্তব্য বা পোস্ট দেওয়ার জন্য প্ররোচিত করা হয়। তবে নিজেকে সংযত রাখতে পারলে অনেক গুজব ও বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত না হয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বা প্রচার করা উচিত নয়।

প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বলেন, গণমাধ্যমই তথ্য প্রচার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি উল্লেখ করেন, তথ্যের ঘাটতি বা সঠিক তথ্যের অভাব থেকেই অধিকাংশ গুজবের জন্ম হয় এবং তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সমাজের বিভিন্ন স্তরে কিছু অসাধু ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করে থাকে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। গুজব প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় তথ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় ও দ্রুত তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। মানুষের মধ্যে গুজবের প্রতি এক ধরনের আকর্ষণ বা আগ্রহ কাজ করে বলেই এসব ভ্রান্ত তথ্য সহজে ছড়িয়ে পড়ে। তাই গুজব মোকাবিলায় শুধু আইন প্রয়োগের ওপর নির্ভর করলে হবে না, এর পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিতকরণ এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যম চর্চার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে গুজব ছড়ানোর ঝুঁকি বেড়েছে। তাই প্রত্যেক নাগরিককে তথ্য যাচাইয়ের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি সরকারি দপ্তরসমূহকে দ্রুত ও নির্ভুল তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে উপপ্রধান তথ্য অফিসার (রুটিন দায়িত্ব) বলেন, আজকের আলোচনায় গুজব প্রতিরোধ ও তথ্য যাচাইয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে। কোনো তথ্যের নির্ভরযোগ্য উৎস নিশ্চিত না হয়ে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা অন্য কোথাও শেয়ার করা উচিত নয়। অনেক সময় প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে না জেনে ছবি বা তথ্য প্রচার করা হলে তা গুজবে পরিণত হয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।

তিনি বলেন, সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত মুখপাত্র (Spokesperson) অথবা লিখিত বক্তব্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এতে ভুল তথ্য ছড়ানোর সুযোগ কমে যায়।

সেমিনারে অন্যান্যদের মধ্যে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং আঞ্চলিক তথ্য অফিস ময়মনসিংহের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।