June 20, 2026, 8:29 am
শিরোনাম:
জন্য ১৭ শিক্ষক-কর্মচারী, এমপিওভূক্ত নিয়ে প্রশ্ন পুকুরিয়ার সংযোগ সড়কের উন্নয়ন কাজ শেষ পর্যায়ে, চেয়ারম্যানকে এলাকাবাসীর ধন্যবাদ রাঙ্গাবালীতে দশম শ্রেণির ছাত্রী নিখোঁজ, ভিডিও বার্তায় যা জানালেন ফরিদপুরে আগুনে ৪ টি দোকান পুড়ে ছাই পটিয়ায় এতিম ও হেফজখানার শিক্ষার্থীদের নিয়ে মানবতার বন্ধনের ফল উৎসব খুলনায় জিরো পয়েন্টে ট্রাকের ধাক্কায় পথচারীর মৃত্যু সংগীত শিল্পী তাহমিনারা রহমান লাইজু সমর্থন গোষ্ঠীর লালন সন্ধ্যা জুনের শেষভাগেও মেলেনি মে মাসের বেতন, দুর্ভোগে মাদ্রাসা শিক্ষকরা নরসিংদীর শখের পাঁচ সিল্কি মুরগি থেকে সফল উদ্যোক্তা স্কুলশিক্ষক মোবারক খুলনায় পুলিশ দম্পতির হাতে গৃহকর্মী নির্যাতন: শিববাড়ী মোড়ে ‘জাগ্রত তরুণ সংঘ’র মানববন্ধন, দ্রুত শাস্তির দাবি

জন্য ১৭ শিক্ষক-কর্মচারী, এমপিওভূক্ত নিয়ে প্রশ্ন

মো. মিজানুর রহমান পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার পূর্ব ইন্দ্রকুল ফিরোজা কামাল বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় মাত্র ৫ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১৭৫ শিক্ষার্থীর জন শিক্ষক ও কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমোদন থাকলেও বর্তমানে পঞ্চম শ্রেণির ওপরে কোনো শিক্ষার্থী নেই।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, উপস্থিত পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে একজন করে এবং চতুর্থ শ্রেণিতে দুইজন শিক্ষার্থী রয়েছে। একই কক্ষে ভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে পাঠদান করা হচ্ছিল। অন্যদিকে কয়েকজন শিক্ষককে একটি কক্ষে বসে আলাপচারিতায় মগ্ন থাকতে দেখা যায়। পরিদর্শনের সময় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির কোনো হাজিরা খাতাও পাওয়া যায়নি।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে ১৩ জন শিক্ষক ও ৪ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। তবে সরেজমিন পরিদর্শনের সময় শিক্ষক ও কর্মচারী মিলিয়ে উপস্থিত ছিলেন সাতজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৪ সালে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মোতালেব মিয়া মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ২০০৪ সালে এটি এমপিওভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে তার পুত্রবধূ মাহফুজা আক্তার মাদ্রাসার সুপার, মেয়ে নুরজাহার রাঢ়ি ইবতেদায়ি শিক্ষক এবং দুই ছেলে খাইরুল ইসলাম অফিস সহকারী ও সিদ্দিকুর রহমান নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, শিক্ষার্থী সংকটের কারণে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, অন্য একটি এমপিওবিহীন প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষার্থী এ মাদ্রাসার মাধ্যমে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। এছাড়া শাপলাখালী এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানে সম্মানীর ভিত্তিতে শিক্ষক পাঠানো হয় এবং সেখানকার কিছু শিক্ষার্থীও এ মাদ্রাসার অধীনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মাহফুজা আক্তার বলেন, “যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং বর্ষা মৌসুমে রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা এ মাদ্রাসায় ভর্তি হতে আগ্রহ দেখায় না। ফলে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী পাওয়া যাচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “এমপিওভুক্ত নয় এমন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আমাদের মাদ্রাসার অধীনে নিবন্ধন করিয়ে দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।”
মাত্র পাঁচ শিক্ষার্থীর জন্য ১৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ এবং দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী সংকট থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।