এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকদের মে মাসের বেতন-ভাতা এখনো ছাড় না হওয়ায় দেশের প্রায় দুই লাখ শিক্ষক ও তাঁদের পরিবার চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। জুন মাসের ১৯ তারিখ পেরিয়ে গেলেও বেতন-ভাতা না পাওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসা অধিদপ্তরের বেতন কোডে অর্থসংকট রয়েছে। তবে কেন এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে মাদ্রাসা অধিদপ্তর বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা আশ্বাস দেওয়া হয়নি। ফলে শিক্ষকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মাদ্রাসা শিক্ষক জানান, গত মাসের শেষ সপ্তাহে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। সে হিসেবে তাঁরা আশা করেছিলেন, ঈদের আগেই মে মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হবে। কিন্তু তা হয়নি। সরকারিভাবে প্রদত্ত ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা দিয়ে ঈদ উদযাপন করা প্রায় অসম্ভব। অনেকেই ধার-দেনা করে ঈদ পালন করেছেন এবং বর্তমানে পাওনাদারদের চাপের মুখে রয়েছেন।
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বোয়ালিয়া সালেহিয়া মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক (গণিত) মো. হামিদুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষকদের জাতি গড়ার কারিগর বলা হয়। অথচ তাঁদের এমন অস্বাভাবিক ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমার বাড়ি বগুড়ায়, আর কর্মস্থল পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায়। ঈদুল আজহার আগে যে উৎসব ভাতা দেওয়া হয়েছে, তা পরিবার নিয়ে বাড়ি যাতায়াতের খরচেই শেষ হয়ে গেছে। আমার মতো যাঁরা শত শত মাইল দূরে কর্মরত, তাঁদের দুর্ভোগ এখন চরমে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত বেতন-ভাতা ছাড় করে শিক্ষকদের এই দুর্ভোগ লাঘব করা।”
এ বিষয়ে বাংলাদেশ মাদ্রাসা জেনারেল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন, গলাচিপা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও প্রভাষক (ইংরেজি) মো. নুরুল ইসলাম নিলয় এক বিবৃতিতে বলেন, “সাধারণত প্রতি মাসের ৫ থেকে ৭ তারিখের মধ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়। কিন্তু মে মাসের বেতন জুন মাসের শেষভাগে এসেও ছাড় না হওয়ায় শিক্ষকরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “প্রত্যেক শিক্ষকের সংসার পরিচালনা, সন্তানদের লেখাপড়া, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের চিকিৎসাসহ মাসিক আয়-ব্যয়ের একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকে। সময়মতো বেতন না পেলে সেই পরিকল্পনা ভেঙে পড়ে। অনেক পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করাও কঠিন হয়ে যায়।”
মাদ্রাসা শিক্ষকদের দাবি, বেতন-ভাতা বিলম্বের কারণ সম্পর্কে দ্রুত স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান এবং অবিলম্বে মে মাসের বেতন ছাড়ের ব্যবস্থা করা হোক, যাতে তাঁরা স্বাভাবিকভাবে পরিবার ও পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন।