পটুয়াখালীর গলাচিপার ক্ষুদে ক্রীড়াবিদ জামিলা আক্তার জাতীয় পর্যায়ের উচ্চলাফ প্রতিযোগিতায় চতুর্থ স্থান অর্জন করে উপজেলাবাসীর জন্য গৌরব বয়ে এনেছে। তার এই অসাধারণ সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
মনোযোগ, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে সাফল্য যে হাতের মুঠোয় ধরা দেয়, তারই উজ্জ্বল উদাহরণ গলাচিপার জামিলা আক্তার। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ এর উচ্চলাফ (বালিকা) প্রতিযোগিতায় চতুর্থ স্থান অর্জন করে সে গলাচিপার নাম উজ্জ্বল করেছে জাতীয় পর্যায়ে।
জামিলা গলাচিপা সদর ইউনিয়নের রতনদী গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহজালালের কন্যা। সে বর্তমানে রতনদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি তার আগ্রহ ও নিষ্ঠা তাকে সাফল্যের একের পর এক ধাপ অতিক্রম করতে সহায়তা করেছে।
জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের আগে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রতিবারই প্রথম স্থান অর্জন করে নিজের প্রতিভা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রাখে জামিলা। ধারাবাহিক এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায় সে। দেশের সেরা প্রতিযোগীদের সঙ্গে লড়াই করে অর্জন করে গৌরবময় চতুর্থ স্থান।
জামিলার এ অর্জনে আনন্দ ও গর্বে উচ্ছ্বসিত তার পরিবার, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বড় সাফল্য বয়ে আনবে এই ক্ষুদে ক্রীড়াবিদ।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে গলাচিপা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক আনুষ্ঠানিকভাবে জামিলার হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন এবং তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আব্দুর রহমান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম সগীর, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওয়ালিউর রহমান, রতনদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুতফুন নাহার এবং সহকারী শিক্ষক ফারজানা।
উপকূলীয় অঞ্চলের একটি সাধারণ বিদ্যালয় থেকে উঠে এসে জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করে জামিলা এখন স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক। তার এই অর্জন প্রমাণ করে—সুযোগ, উৎসাহ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে গ্রামের শিক্ষার্থীরাও দেশের ক্রীড়াঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম।