জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভার মাইজবাড়ী পূর্বপাড়া পুরাতন জামে মসজিদের অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা ও নতুন মসজিদের স্থান নির্ধারণকে কেন্দ্র করে মসজিদ কমিটি দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে। বিরোধের জেরে একই সমাজে বর্তমানে পৃথক দুটি স্থানে দুইটি মসজিদ নির্মাণের কাজ চলছে। এতে স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর মধ্যে বিভক্তির সৃষ্টি হয়েছে এবং সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।রোববার সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় মুসল্লি ও মসজিদ কমিটির উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিগপাইত-সরিষাবাড়ী-তারাকান্দি মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় মাইজবাড়ী পূর্বপাড়া পুরাতন জামে মসজিদের জমি অধিগ্রহণ বাবদ প্রায় ৩২ লাখ টাকা এবং মসজিদের স্থাপনার ক্ষতিপূরণ বাবদ আরও প্রায় ৫৬ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। পরে ওই অর্থের ব্যবহার ও নতুন মসজিদ নির্মাণের স্থান নির্ধারণ নিয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়।

পুরাতন মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হুরমুজ আলীর পক্ষের দাবি, অধিগ্রহণের ৩২ লাখ টাকা দিয়ে পুরাতন মসজিদের পূর্ব পাশে ৫ শতাংশ জমি ক্রয় করে সেখানে তিনতলা বিশিষ্ট নতুন মসজিদের ভিত্তি নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে তাদের অভিযোগ, মসজিদের অবকাঠামো ক্ষতিপূরণের প্রায় ৪৭ লাখ টাকা সভাপতি মকবুল হোসেন পৃথক হিসাবের মাধ্যমে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন এবং সেই অর্থের স্বচ্ছ হিসাব দেননি। তাদের দাবি, সভাপতির কাছে থাকা অর্থ হস্তান্তর না করায় মসজিদের নির্মাণকাজ বর্তমানে থমকে রয়েছে।
হুরমুজ আলী বলেন,“মসজিদের সব টাকা এক জায়গায় রেখে সমাজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু সভাপতি মকবুল হোসেন আলাদা কমিটি করে অন্য জায়গায় দিয়ারকৃষ্ণনাই মৌজায় মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। হিসাব চাইলে আমাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। তাই আমরা আদালতের আশ্রয় নিয়েছি।”
অন্যদিকে মসজিদ কমিটির সভাপতি মকবুল হোসেন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,“আমি দীর্ঘ ৪০ বছর বিনা বেতনে এ মসজিদে ইমামতি করেছি। মসজিদের সব কাজ সমাজের মানুষ ও মুসল্লিদের মতামতের ভিত্তিতেই করা হয়েছে। একজন দানশীল ব্যক্তি রঞ্জু হাজী ১০ শতাংশ জমি বিনামূল্যে দান করায় সেখানে বড় পরিসরে নতুন মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং কাজও চলছে। অধিগ্রহণ থেকে পাওয়া সব অর্থ ইসলামী ব্যাংকের হিসাবে জমা রয়েছে এবং তা মসজিদের কাজেই ব্যয় করা হবে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি।”
তিনি আরও বলেন,“কিছু ব্যক্তি ব্যক্তিগত মতবিরোধ থেকে বিষয়টিকে জটিল করার চেষ্টা করছেন। আমরা চাই শান্তিপূর্ণভাবে মসজিদের কাজ সম্পন্ন হোক।”
এদিকে বিরোধ মীমাংসায় স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। পরে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। মাইজবাড়ী পূর্বপাড়া পুরাতন জামে মসজিদের জমিদাতা মৃত সিরাজ আলীর ছেলে হাছেন আলী বাদী হয়ে সরিষাবাড়ীর সিআর আমলি আদালতে মসজিদের সভাপতি মকবুল হোসেনের বিরুদ্ধে অধিগ্রহণের সমুদয় অর্থের হিসাব ও প্রাপ্তির দাবিতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি বর্তমানে সরিষাবাড়ী থানা পুলিশের তদন্তাধীন রয়েছে।
স্থানীয় মুসল্লি আমজাদ হোসেন, ইকবাল হোসেন, মাজেদুর রহমান ও ফরহাদ হোসেনসহ অনেকেই জানান, একই সমাজে পৃথক দুটি মৌজায় মসজিদ নির্মাণের ঘটনায় সামাজিক ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন।