May 9, 2026, 7:33 pm

ইটভাটার ধোঁয়া-তাপে পুড়ছে ফসল, সরিষাবাড়ীতে ক্ষতিপূরণের দাবিতে কৃষকদের ক্ষোভ

তৌকির আহাম্মেদ হাসু,স্টাফ রিপোর্টার:

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের চকপাড়া এলাকায় ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও অতিরিক্ত তাপের প্রভাবে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বিঘা জমির বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসল, বনজ ও ফলদ গাছের ব্যাপক ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। এতে শতাধিক কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দ্রুত ক্ষতিপূরণ এবং ইটভাটার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চকপাড়া ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের কৃষিজমির খুব কাছেই গড়ে উঠেছে ইটভাটা। ইটভাটা থেকে নির্গত ঘন কালো ধোঁয়া, ছাই ও তীব্র গরম বাতাসের কারণে চলতি বোরো মৌসুমে ধানের শীষ পুড়েছে।অনেক জমিতে ধান পরিপক্ব হওয়ার আগেই শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু বোরো ধানই নয়, বিভিন্ন শাক-সবজি, বাঁশঝাড়, বনজ ও ফলদ গাছেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে বলে অভিযোগ কৃষকদের।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে আব্দুল আজিজ, আব্দুস সাত্তার, মুজিবর রহমান, আজীরন বেওয়া, চায়না বেগম, রওশনারা, মকবুল হোসেন ভোলা, আবুল হোসেন, আরিফুল ইসলাম, হেলাল মিয়া ও মোকছেদ আলীসহ অনেকেই জানান, চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের আশায় তারা ঋণ ও ধারদেনা করে জমিতে ধান আবাদ করেছিলেন। কিন্তু ইটভাটার ধোঁয়া ও অতিরিক্ত তাপে তাদের সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।


ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোকছেদ আলী বলেন,এক একর জমিতে ধান আবাদ করেছি। কিন্তু ইটভাটার ধোঁয়া আর গরম বাতাসে ধান শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি।”
অপর কৃষক মকবুল হোসেন ভোলা বলেন,অনেক কষ্ট করে বোরো ধান চাষ করেছি। মাঠে গিয়ে দেখি ধানের শীষ শুকিয়ে গেছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া আমাদের পক্ষে খুবই কঠিন।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষিজমির আশপাশে পরিবেশগত নিয়মনীতি উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিতভাবে ইটভাটা পরিচালিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে প্রতিবছরই কৃষকরা ফসলহানির শিকার হচ্ছেন।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অনুপ সিংহ জানান, স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ইটভাটার প্রভাবের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে স্থানীয় নেতা আব্দুল মজিদ বলেন,কৃষিজমির পাশে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনার কারণে প্রতিবছরই ফসল, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হচ্ছে। কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কৃষিভিত্তিক এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের নীতিমালা অমান্য করে যত্রতত্র ইটভাটা স্থাপনের ফলে একদিকে যেমন কৃষিজমির উর্বরতা কমছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ কৃষকরা। তারা অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান এবং কৃষিজমি রক্ষায় কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।