July 29, 2026, 4:26 pm
শিরোনাম:
গঙ্গাচড়ায় গর্তে রাস্তার বেহাল অবস্থা, দ্রুত সংস্কারের দাবি গাইবান্ধায় আড়াই বছর ধরে আটকে রয়েছে ৭টি সেতুর কাজ, ৪টি সেতুর কাজ শুরু হয়নি রামগতিতে পানির লাইন খুঁড়তে মিলল তিনটি মর্টার শেল সদৃশ বস্তু নীলফামারীতে র‍্যাব-১৩ এর উদ্যোগে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সুধী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দিনাজপুর পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ে “নাগরিক ভাবনাঃ আমাদের করণীয়” শীর্ষক নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের নবনিযুক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আকরাম এলাহী মাদকবিরোধী অভিযানে কৃতিত্বের স্বীকৃতি, সম্মানিত রাঙ্গামাটি পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন আলমগীর শরীয়তপুরে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ আটক ৩ জাপানে ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ১৩, চলছে উদ্ধার অভিযান জেন জি’রা আসছে, সাবধান ভারত

অবন্ধুসুলভ ন্যাটো মিত্রদের শাস্তি দেবেন ট্রাম্প?

নিউজ পাওয়ার ২৪ ডেস্ক:

ন্যাটোর যেসব সদস্য রাষ্ট্র ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যাশা অনুযায়ী ‘আদর্শ মিত্র’ হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে পারেনি, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে হোয়াইট হাউস। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানানো দেশগুলোর জন্য একটি ভালো-মন্দের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ন্যাটোর যেসব সদস্য তাদের প্রতিরক্ষা বাজেটে পর্যাপ্ত অবদান রাখে না, তাদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলেন এবং এবারের এই তালিকা সেই হুমকিরই একটি বাস্তব প্রতিফলন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই মাসের শুরুতে ন্যাটোর প্রধান মার্ক রুটের ওয়াশিংটন সফরের আগেই মার্কিন কর্মকর্তারা এই তালিকার খসড়া চূড়ান্ত করেছেন। তিন ইউরোপীয় কূটনীতিক এবং একজন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার মতে, এই তালিকায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে তাদের সামরিক অবদান এবং আনুগত্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্তরে ভাগ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এখন এই বিভাজনকে হাতিয়ার করে মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টির নতুন কৌশল গ্রহণ করছে যা ইতিমধ্যেই ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ সংহতিকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গত ডিসেম্বরেই এই ধারণার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, ইসরায়েল, দক্ষিণ কোরিয়া, পোল্যান্ড এবং বাল্টিক দেশগুলোর মতো যারা যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে সক্রিয়ভাবে সাড়া দিচ্ছে, তারা বিশেষ আনুকূল্য পাবে। অন্যদিকে, যেসব দেশ সম্মিলিত প্রতিরক্ষার নামে নিজেদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে, তাদের গুরুতর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। হোয়াইট হাউসের এই গোপন তালিকাটি হেগসেথের সেই বার্তারই একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা বিশেষ সুবিধার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ না করা হলেও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা বেশ উদ্বিগ্ন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন হয়তো এই তালিকা ব্যবহার করে মার্কিন সেনা মোতায়েনের চিত্র বদলে দিতে পারে। তবে তিনি এও মনে করিয়ে দেন যে মিত্র দেশ থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া আদতে যুক্তরাষ্ট্রের নিজের কৌশলী অবস্থানের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে। তা সত্ত্বেও হোয়াইট হাউস তাদের অসন্তুষ্টির কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে যে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন তথাকথিত মিত্রদের অনুপস্থিতি তারা মনে রাখবে।

ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার বিকল্প খুব একটা হাতে না থাকায় সম্ভবত ট্রাম্প প্রশাসন এক দেশ থেকে অন্য দেশে সেনা স্থানান্তরের পথ বেছে নেবে। এক্ষেত্রে রোমানিয়া এবং পোল্যান্ড সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পোল্যান্ড ইতিমধ্যেই তাদের দেশে অবস্থানরত দশ হাজার মার্কিন সেনার প্রায় পুরো খরচ বহন করছে, যা ট্রাম্পের অত্যন্ত পছন্দ। অন্যদিকে রোমানিয়ার মিহাইল কোগালনিচানু বিমান ঘাঁটিটি ইরান যুদ্ধে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ নজরে রয়েছে দেশটি।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন, এই তালিকার মূল ভিত্তি সেটিই। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে তারা এখন থেকে শুধুমাত্র সেইসব ‘মডেল অ্যালই’ বা আদর্শ মিত্রদের সাথে সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দেবে যারা সম্মিলিত প্রতিরক্ষায় নিজেদের ভাগ অনুযায়ী অর্থ ও শ্রম দিচ্ছে। এর ফলে যারা ট্রাম্পের নীতিতে সায় দিচ্ছে না, তাদের জন্য সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় বা যৌথ মহড়ার মতো ক্ষেত্রগুলোতে সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসতে পারে।

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকা এবং হরমুজ প্রণালীতে তেহরানের অবরোধ মোকাবিলায় সহায়তার বিষয়টি এই তালিকার অন্যতম মানদণ্ড হিসেবে কাজ করেছে। স্পেন, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সের মতো দেশগুলো যখন মার্কিন অনুরোধে সাড়া দিতে কালক্ষেপণ করেছে, তখন রোমানিয়া ও বুলগেরিয়ার মতো দেশগুলো তাদের বিমান ঘাঁটি ও লজিস্টিক সহায়তা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আস্থা অর্জন করেছে। স্পেনের পক্ষ থেকে ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের বিরোধিতা করায় দেশটি ইতিমধ্যেই ট্রাম্পের বিরাগভাজন হয়েছে।

মিত্রদের এভাবে প্রকাশ্যে শাস্তির আওতায় আনার বিষয়টিকে ভালো চোখে দেখছেন না খোদ মার্কিন রাজনীতিকদের একাংশ। মিসিসিপির রিপাবলিকান সিনেটর রজার উইকার সতর্ক করে বলেছেন যে মিত্রদের এভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা মোটেও গঠনমূলক কোনো কাজ নয়। অন্যদিকে, কিছু প্রাক্তন কর্মকর্তা মনে করেন, ইরান যুদ্ধের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে ইউরোপের সাথে নতুন করে বিবাদে জড়ানোর মতো সক্ষমতা বা সময় এখন ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে খুব একটা নেই। সব মিলিয়ে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এখন এক অনিশ্চিত মেরুকরণের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

সূত্র: পলিটিকো


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *