গাইবান্ধা শহরের ব্রীজ রোড অ্যাকোয়াস্টেট পাড়া এলাকায় সন্ধ্যার পর একটি বসতবাড়িতে সংঘটিত দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বাড়ির তালা ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোনসহ প্রায় ১২লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. শাহাদৎ আলী শান্তের পরিবারের সদস্যরা গত বুধবার রাতে চিকিৎসা ও ব্যক্তিগত কাজে বাড়ির বাইরে ছিলেন। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা বাড়ির সীমানা প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে বারান্দা ও কক্ষগুলোর তালা ভেঙে ঘরের জিনিসপত্র তছনছ করে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও দুটি স্মার্টফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।
রাতে বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যরা প্রধান ফটক ভেতর থেকে আটকানো অবস্থায় দেখতে পান। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ভেতরে প্রবেশ করে তারা চুরির বিষয়টি জানতে পারেন। পরে বাড়ির মালিক ঘটনাস্থলে এসে মূল্যবান মালামাল ও নগদ টাকা খোয়া যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, চোরেরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ঘটনা ঘটিয়েছে। বাড়ির প্রতিটি কক্ষের তালা ভেঙে মূল্যবান জিনিসপত্র খুঁজে বের করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, সংঘবদ্ধ চোরচক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি পর্যবেক্ষণ করছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে শহর ও আশপাশের এলাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে অধিকাংশ ঘটনার সুরাহা না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা বলেন, আমাদের কষ্টার্জিত সম্পদ মুহূর্তের মধ্যে লুট হয়ে গেছে। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত, চোরদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানাচ্ছি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অপরাধীরা বারবার এমন ঘটনা ঘটালেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে চোরচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তারা গাইবান্ধা জেলা পুলিশ ও গাইবান্ধা সদর থানার প্রতি বিশেষ নজরদারি বৃদ্ধি এবং দ্রুত অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পুলিশ দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করবে এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন-শহরের ভেতর এমন পরিকল্পিত চুরি সংঘটিত হওয়ার পরও যদি অপরাধীরা ধরা না পড়ে, তবে সাধারণ মানুষের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে? এখনই সময় চোরচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়ে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার।