লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রকাশ্যেই চরম অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে বিক্রি করা হচ্ছে খোলা মিষ্টি ও দুগ্ধজাত সামগ্রী। স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে তৈরি ও খোলা অবস্থায় রাখা এসব মিষ্টিতে মাছি ও মশারি পোকা ভনভন করতে দেখা যাচ্ছে। এসব অস্বাস্থ্যকর মিষ্টি খেয়ে সাধারণ মানুষ পেটের পীড়াসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার মারাত্মক আশঙ্কায় রয়েছেন।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলার হাজিরহাট, তোরাবগঞ্জ, মাতাব্বরহাট, করুণানগর এবং ফলকনসহ বিভিন্ন বাজারের মিষ্টির দোকানগুলোতে দেখা মেলে এক করুণ চিত্র। বেশিরভাগ দোকানেই খোলা অবস্থায় বা ঢাকা না দিয়ে রাখা হয়েছে মিষ্টি ও অন্যান্য মিষ্টিজাতীয় দ্রব্য। তার ওপর এসে পড়ছে মাছি, মশা ও ধুলাবালি। এমনকি মাছি পড়ে থাকা অবস্থাতেই তা বিক্রি করা হচ্ছে ক্রেতাদের কাছে। শুধু বাজারজাতকরণেই নয়, যেসব কারখানায় এসব মিষ্টি তৈরি হচ্ছে—সেখানেও নেই কোনো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। জং ধরা পাত্র, নোংরা পরিবেশ এবং বাসি মিষ্টির রস বারবার ব্যবহারেরও অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
প্রতিদিন শত শত মানুষ এবং বিশেষ করে শিশুরা এসব মিষ্টি ও মিষ্টান্ন দ্রব্য গ্রহণ করছে। খোলা ও মাছি পড়া মিষ্টি খাওয়ার ফলে আমাশয়, ডায়রিয়া, ফুড পয়জনিং এবং গ্যাস্ট্রিকের মতো স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে বলে সচেতন মহল ও চিকিৎসকদের ধারণা।
স্থানীয় সচেতন বাসিন্দাদের দাবি, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবিলম্বে উপজেলার সকল মিষ্টির কারখানা ও দোকানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো উচিত। নিয়মিত তদারকি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য বিক্রির দায়ে জরিমানা ও কঠোর ব্যবস্থা নিলে এ চিত্র বদলাতে বাধ্য।