মেঘনার অব্যাহত ভাঙন থেকে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি ও কমলনগর উপজেলাকে রক্ষা করতে বাস্তবায়নাধীন ৩১ কিলোমিটার স্বপ্নের টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আওতায় প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বছরের আগেই বাঁধের পুরো কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভাঙন রোধের পাশাপাশি চোখজুড়ানো সৌন্দর্য ছড়িয়ে এলাকাটি এখন রূপ নিয়েছে দৃষ্টিনন্দন রিসোর্ট জোনে, যা নিয়ে পুরো এলাকাজুড়ে চলছে আনন্দের জোয়ার।
দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনে হাজার হাজার পরিবার তাদের ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছিল। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে এখন রক্ষা পাচ্ছে হাজারো মানুষের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও শত শত প্রতিষ্ঠান। বাঁধটি তৈরি হওয়ার পর থেকেই শুধু যে ভাঙন রুদ্ধ হয়েছে তা নয়, বরং প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে ছুটে আসছেন। স্থানীয়দের মতে, বাঁধের কাজ পুরোপুরি শেষ হলে এটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে এবং তৈরি হবে হাজার হাজার মানুষের নতুন কর্মসংস্থান।
প্রকল্পের অগ্রগতি ও সুফল সম্পর্কে আনন্দ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মেঘনার গ্রাস থেকে তাদের ভিটেমাটি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড যে ভূমিকা রেখেছে তা অভাবনীয়। এজন্য তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এলাকাবাসীর মতে, এই বাঁধ কেবল তাদের বাঁধন নয়, এটি নতুন করে বেঁচে থাকার সাহস ও জীবিকার পথ খুলে দিয়েছে।
সার্বিক কাজের অগ্রগতি ও সার্বক্ষণিক তদারকি নিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা নাহিদুজ্জামান জানান, “রামগতি ও কমলনগরের মানুষের স্বপ্ন পূরণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিটি কর্মকর্তা ও কর্মচারী দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। বাঁধের কাজের কাজ ইতোমধ্যেই ৭০% শেষ হয়েছে। আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী যে, আগামী বছর আসার আগেই সম্পূর্ণ কাজ সফলভাবে শেষ হবে এবং এই অঞ্চলের মানুষ চিরতরে নদীভাঙনের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে।”
বাধটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে তা শুধু রামগতির উপকূলীয় নিরাপত্তাই সুদৃঢ় করবে না, বরং লক্ষ্মীপুরকে পর্যটন ও অর্থনৈতিক দিক থেকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রতিনিধি, কবির হোসেন রাকিব,