মাত্র ৭ বছরের নিষ্পাপ শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিনকে স্কুল থেকে কৌশলে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। পরিবারের চোখের পানিকে আনন্দের অশ্রুতে পরিণত করে মাত্র দুই দিনের মধ্যেই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় অপহরণকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার এবং অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায়, রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, পিপিএম-এর তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার সমন্বিত অভিযানে এ সাফল্য আসে।
জানা যায়, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পশ্চিম সরফভাটা ইমাম আজম আবু হানিফা (রহ.) স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন (৭) গত ২০ জুলাই প্রতিদিনের মতো স্কুলে গেলেও ছুটির পর আর বাড়ি ফেরেনি। সন্তানের কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবার দিশেহারা হয়ে চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে।
পরে এক সহপাঠীর কাছ থেকে জানা যায়, এক ব্যক্তি নিজেকে সিএনজি চালক পরিচয় দিয়ে শিশুটিকে বলে—তার বাবা হাসপাতালে ভর্তি, তাকে বাবার কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে শিশুটিকে সিএনজিতে তুলে অপহরণ করা হয়।
ঘটনার পর শিশুটির বাবা দেলোয়ার হোসেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ডিবি ও থানা পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং ধারাবাহিক গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে দিন-রাত নিরলস অভিযান চালিয়ে অবশেষে অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
অভিযানে মো. রাকিব (২২), মো. ফয়সাল (৩২) ও মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫৫)-কে গ্রেফতার করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে অপহৃত শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিনকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং অপহরণে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গ্রেফতারকৃত ফয়সাল সম্পর্কে ভিকটিমের আপন মামাতো ভাই। সহজে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের লোভে সে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই অপহরণের ছক কষে এবং পরিচিত সিএনজি চালকদের অর্থের লোভ দেখিয়ে এ অপরাধে সম্পৃক্ত করে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং শিশু অপহরণসহ সব ধরনের গুরুতর অপরাধ দমনে তাদের অভিযান ভবিষ্যতেও একইভাবে অব্যাহত থাকবে।