পদ্মা সেতুর ড্রেজিং প্রকল্পের ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল (বালু) অপসারণ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে চলমান অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাসিন তাহান কনস্ট্রাকশনের প্রোপ্রাইটর ফরিদ আহমেদ রয়েল মাঝি।
সোমবার (৬ জুলাই ২০২৬) রাত ৯ টায় নড়িয়া প্ররসক্লাবে তিনি এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, পদ্মা সেতুর ড্রেজিং প্রকল্পের মাধ্যমে উত্তোলিত বিপুল পরিমাণ ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল পূর্ববর্তী সময়ে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা এলাকায় পদ্মা নদীর বাম তীরসংলগ্ন ডুবোচরে ফেলে রাখা হয়েছিল। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় ভাঙনের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। এ কারণে অতীতেও দুই দফায় মোট ১ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল অপসারণের জন্য সরকারি কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল।
তিনি জানান, একই ধারাবাহিকতায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অবশিষ্ট ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল অপসারণের জন্য দরপত্র আহ্বান করলে তিনি সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল ১০ কোটি ঘনফুট ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল অপসারণের কার্যাদেশ পান এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কাজ শুরু করেন।
ফরিদ আহমেদ রয়েল মাঝির অভিযোগ, কাজ শুরুর পর থেকেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বৈধ কার্যক্রমকে ‘অবৈধ বালু উত্তোলন’ হিসেবে প্রচার করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং কিছু গণমাধ্যমও যথাযথ তথ্য যাচাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, ঈদ উপলক্ষে নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, নদীর তীব্র স্রোত, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং অপপ্রচারের কারণে ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হন। যদিও কার্যাদেশের মেয়াদ ছিল ৯ মাস, বাস্তবে তিনি মাত্র ৫ মাস কাজ করতে পেরেছেন। ওই সময়ে ৫ কোটি ৭ লাখ ১৩ হাজার ৪৭০ ঘনফুট ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল অপসারণ করা হয়।
পরবর্তীতে জেলা ও উপজেলা ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদনের পর প্রায় ৮ মাস বন্ধ থাকার পর ২০২৬ সালের ৭ মে পুনরায় কাজ শুরুর অনুমতি পান। তবে কাজ শুরু হওয়ার পর আবারও পুরোনো ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যবহার করে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি জানান, চলতি বছরের ২ জুলাই পর্যন্ত মোট ৫ কোটি ৮০ লাখ ৪৮ হাজার ৪৭০ ঘনফুট ড্রেজড ম্যাটেরিয়াল অপসারণ করা হয়েছে এবং এখনও ৪ কোটি ১৯ লাখ ৫১ হাজার ৫৩০ ঘনফুট অপসারণ বাকি রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ফরিদ আহমেদ রয়েল মাঝি বলেন, তিনি সরকারি কার্যাদেশ ও নির্ধারিত শর্ত মেনেই কাজ করছেন। কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কমিটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে যাচাই-বাছাই ছাড়া তাঁকে ‘অবৈধ বালু ব্যবসায়ী’ হিসেবে প্রচার করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে তিনি আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন এবং ড্রেজারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতির বিপরীতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। অপপ্রচার ও কাজে বাধার কারণে তিনি ইতোমধ্যে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষ যদি তাঁর বৈধ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তিনি অপসারণ কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হবেন এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। পাশাপাশি যারা তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করছেন, তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠান অতীতেও কোনো বেআইনি কাজ করেনি, বর্তমানে করছে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না।