July 29, 2026, 4:24 pm
শিরোনাম:
গঙ্গাচড়ায় গর্তে রাস্তার বেহাল অবস্থা, দ্রুত সংস্কারের দাবি গাইবান্ধায় আড়াই বছর ধরে আটকে রয়েছে ৭টি সেতুর কাজ, ৪টি সেতুর কাজ শুরু হয়নি রামগতিতে পানির লাইন খুঁড়তে মিলল তিনটি মর্টার শেল সদৃশ বস্তু নীলফামারীতে র‍্যাব-১৩ এর উদ্যোগে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সুধী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দিনাজপুর পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ে “নাগরিক ভাবনাঃ আমাদের করণীয়” শীর্ষক নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের নবনিযুক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আকরাম এলাহী মাদকবিরোধী অভিযানে কৃতিত্বের স্বীকৃতি, সম্মানিত রাঙ্গামাটি পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন আলমগীর শরীয়তপুরে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ আটক ৩ জাপানে ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ১৩, চলছে উদ্ধার অভিযান জেন জি’রা আসছে, সাবধান ভারত

ফরিদপুরে ফয়সাল হত্যা মামলা: ১৪ বছর পর বিচার, তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড

নাজিম বকাউল , ফরিদপুর

ফরিদপুর শহরে সবজি বিক্রেতা ফয়সাল শেখ (২২) হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে ফরিদপুরের অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মোহাম্মাদ বদিউজ্জামান চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার চান সরদার (৪২), তাঁর ভাই তারা সরদার (৩৫) এবং একই এলাকার বাবুল আকন্দ (৩৬)। রায় ঘোষণার সময় আসামি বাবুল আকন্দ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁকে কড়া পুলিশ পাহাড়ায় কারাগারে পাঠানো হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য দুই আসামি (চান সরদার ও তারা সরদার) পলাতক থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, প্রায় ১৪ বছর আগে ২০১২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত ফয়সাল শেখ ফরিদপুর শহরের হাজী শরীয়াতুল্লাহ বাজারের বেইলী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকার সবজি বিক্রেতা ছিলেন। আর আসামি চান সরদার ওই বাজারের একটি আড়তে লেবার হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার কিছুদিন আগে তাঁদের মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও চরম মনোমালিন্য হয়।

এরই জের ধরে ২০১২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে ফয়সাল ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় পৌঁছালে চান সরদার কৌশলে তাকে নির্মাণাধীন একটি ভবনের পাশে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই ওৎ পেতে থাকা অন্য আসামিরা ফয়সালকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে ফয়সালের মৃত্যু হয়।

ঘটনার পরদিন নিহতের মা ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই ফরিদপুর সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহজাহান মিয়া চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন।

মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে এজাহারনামীয় এক আসামি শাহিন সরদার মারা যাওয়ায় তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালত তিন আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এই সর্বোচ্চ শাস্তির রায় প্রদান করেন।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট চৌধুরী জাহিদ হাসান (খোকন) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “দীর্ঘ সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধীদের অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। পলাতক দুই আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *