June 10, 2026, 1:00 pm
শিরোনাম:
ফরিদপুরে র‍্যাবের পৃথক অভিযান: সাড়ে ১৯ কেজি গাঁজাসহ খাগড়াছড়ির ৪ মাদক কারবারি গ্রেফতার ৬৯ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভাঙলেন মেসি রামমূর্তি নির্মাণ প্রকল্পের তদন্ত ও নির্মাণ বন্ধের দাবিতে গাইবান্ধায় সংবাদ সম্মেলন টাঙ্গাইল শিক্ষার্থীদের মাঝে ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে অবহিতকরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত পাইকগাছায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ-কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্মান জানিয়ে চিরবিদায়! মায়ের মাথা গোঁজার ঠাঁই হলো না ছেলের নতুন বিল্ডিংয়ে শরীয়তপুর জেলা যুবদলের সভাপতি পদে এ্যাড. মৃধা নজরুল কবিরকে দেখতে চান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ওমান উপকূলে তেলবাহী জাহাজে অগ্নিকাণ্ড, দুই নাবিক নিখোঁজ ফরিদপুরে ১৫ কোটির সড়ক ও ৩ ব্রীজ চালুর অপেক্ষায়, ভাগ্য ফিরছে ৪০ গ্রামের মানুষের কেডি খাল নগরবাসীর আশীর্বাদের পরিবর্তে অভিশাপে পরিণত

মায়ের মাথা গোঁজার ঠাঁই হলো না ছেলের নতুন বিল্ডিংয়ে

মু আলম, কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ৯৬ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা মায়ের জীবনের শেষ সময়ে আশ্রয় জোটেনি ছেলের নতুন নির্মিত বিল্ডিং ঘরেও। একমাত্র ছেলে প্রবাসে চলে যাওয়ার পর তাঁকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি মেয়ের জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

ঘটনাটি উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের। ভুক্তভোগী ছামেনা খাতুনের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী জন্ম ১৯৩১ সালের ২২ নভেম্বর। তাঁর স্বামী আবদুল হক ২০০৮ সালে মারা যান। তিন মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে একমাত্র ছেলে ফয়েজ আহমেদ ২০০৬ সাল থেকে সৌদি আরবে কর্মরত।

স্থানীয় সূত্র জানায়, স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই ছামেনা খাতুনের দুর্দশা শুরু হয়। ২০১১ সালে ছেলে ফয়েজ আহমেদ তাঁকে নিজের বাড়ি থেকে পাশের বাড়িতে থাকা মেয়ে রোকেয়া বেগমের কাছে পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকে মেয়ের বাড়িতেই বসবাস করছেন তিনি। রোকেয়া বেগম নিজেও স্বামীহারা। দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে অভাবের সংসার চালালেও মায়ের দেখভাল করে আসছেন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশে ফিরে ফয়েজ আহমেদ নতুন একটি বিল্ডিং ঘর নির্মাণ করেন। গ্রামবাসীর অনুরোধে তিনি মাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু গত ৪ মে সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার পরপরই পরিস্থিতি বদলে যায়। অভিযোগ রয়েছে, ফয়েজ আহমেদের স্ত্রী রুমা বেগম গভীর রাতে ছামেনা খাতুনের মালামালসহ তাঁকে আবার মেয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

ছামেনা খাতুনের মেয়ে রোকেয়া বেগম বলেন, “আমার ভাই ও ভাবি দীর্ঘদিন ধরে মায়ের প্রতি অবহেলা করে আসছেন। আমার অভাবের সংসার হলেও আমরা মায়ের ভরণপোষণ চালিয়ে যাচ্ছি। ভাই দেশে এসে মাকে নতুন ঘরে তুলেছিলেন। কিন্তু তিনি বিদেশে যাওয়ার পরদিনই ভাবি মাকে ঘর থেকে বের করে দেন।”

ছামেনা খাতুন বলেন, “আমাকে অনেক বছর আগে ছেলে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। তারা আমার কোনো খোঁজখবর রাখে না। আমার মেয়েরাই আমাকে দেখাশোনা করে।”

লক্ষীপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল মান্নান বলেন, “গ্রামবাসীর অনুরোধে ফয়েজ আহমেদ তাঁর মাকে নতুন ঘরে তুলেছিলেন। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার পরদিনই তাঁর স্ত্রী বৃদ্ধাকে ঘর থেকে বের করে দেন। বর্তমানে যে মেয়ের বাড়িতে তিনি থাকছেন, সেই পরিবারও খুবই অসচ্ছল।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রুমা বেগম সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আলকরা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল বশর বলেন, “বিষয়টি আমি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। খোঁজখবর নিয়ে গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করব।”

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। স্থানীয় চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ছামেনা খাতুনের ভরণপোষণের বিষয়েও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”