লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে পূর্ব শত্রুতা ও পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে এক মুদি ব্যবসায়ীর দোকানে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে দোকানের সমস্ত মালামাল পুড়ে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী দাবি করেছেন।
আজ মঙ্গলবার (০৯ জুন) ভোর রাতে উপজেলার চরসীতা কাজির মাদরাসার দক্ষিণ পার্শ্বে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোঃ নোমান সিদ্দিক বাদী হয়ে চরসীতা এলাকার মৃত গোলাম কুদ্দুসের ছেলে মোঃ মোছলেহ উদ্দিনকে (৫৫) বিবাদী করে রামগতি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চরসীতা এলাকার হাজী নুরুজ্জামানের ছেলে মোঃ নোমান সিদ্দিক কাজির মাদরাসার দক্ষিণ পার্শ্বে দীর্ঘদিন ধরে মুদি ব্যবসা করে আসছিলেন। বিবাদী মোছলেহ উদ্দিন ওই দোকান থেকে বিভিন্ন সময় বাকিতে মালামাল নিয়ে টাকা পরিশোধ করতেন না। পাওনা টাকা চাইলে তিনি কালক্ষেপণ করতেন। এর জের ধরে ঘটনার তিনদিন আগে স্থানীয় একটি বৈঠকে বিবাদী মোছলেহ উদ্দিন ব্যবসায়ী নোমান সিদ্দিককে ব্যবসা করতে না দেওয়ার হুমকি দেন এবং দোকান জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করেন।
পরবর্তীতে আজ ৯ জুন রাত আনুমানিক ২:৪৫ ঘটিকায় দোকানের পার্শ্ববর্তী লোকজন দোকানে আগুন জ্বলতে দেখে নোমান সিদ্দিককে ফোনে জানান। খবর পেয়ে রাত ৩:৩০ ঘটিকায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে দোকানে থাকা সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোঃ নোমান সিদ্দিক জানান, “অভিযুক্ত মোছলেহ উদ্দিন আমার পাওনা টাকা না দিয়ে উল্টো আমাকে হুমকি দিয়েছিল। আজ রাতে সেই আমার দোকানে আগুন লাগিয়ে আমার সর্বস্ব শেষ করে দিয়েছে। দোকানে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার মালামাল ছিল। এই দোকানটিই ছিল আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম। আমি এখন পরিবার নিয়ে সম্পূর্ণ অসহায় ও মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এই বিষয়ে জানতে চাইলে রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, “দোকানে আগুন দেওয়ার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে