May 7, 2026, 4:17 am
শিরোনাম:
রাজধানী ঢাকায় দুপুরের মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের হুইপ-সংসদ সদস্য সহ বিশিষ্ট জনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ বাঁশখালীতে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে এমপি জহিরুল ইসলামের মতবিনিময় সভা ইরান যুদ্ধ দ্রুতই শেষ হবে : ট্রাম্প বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে ঢাকা তারাগঞ্জের কুর্শা ইউনিয়নে দোকানেই দারিদ্রের সঙ্গে যুদ্ধে করে চলছে  ১১ বছর বয়সী ছেলের  সংসার হরমুজ আগে, পারমাণবিক পরে- ইরানের শর্তই মানতে বাধ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র? ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে ইউনেস্কো প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ কংগ্রেসের সমর্থন পেল টিভিকে; মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দ্বারপ্রান্তে থালাপতি বিজয় বায়ার্নের স্বপ্ন ভেঙে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পিএসজি

তারাগঞ্জের কুর্শা ইউনিয়নে দোকানেই দারিদ্রের সঙ্গে যুদ্ধে করে চলছে  ১১ বছর বয়সী ছেলের  সংসার

মোঃ রজব আলী ,তারাগঞ্জ,রংপুর

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ২নং কুর্শা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বিস্নপুর কামারপাড়ায় যেন হঠাৎ করেই থেমে গেছে একটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবন। যে বয়সে মাঠে দৌড়ে বেড়ানোর কথা, খেলাধুলায় মেতে থাকার কথা সেই বয়সেই সংসারের ভার কাঁধে তুলে নিতে হয়েছে (১১) বছর বয়সী অপূর্ব চন্দ্র রায়কে।

অপূর্বের মা স্যামলী রানি রায় (৩৬) জানান, তার স্বামী সানু ভুষুন রায় (৪৪) দীর্ঘদিন লিভারের জটিল রোগে ভুগছিলেন। চিকিৎসার পেছনে প্রায় দেড় বছরে পাঁচ লাখ টাকারও বেশি খরচ হয়ে যায়। সব সঞ্চয় শেষ হয়ে যাওয়ার পর অবশেষে চার মাস আগে তিনি মারা যান। স্বামীর মৃত্যু যেন শুধু একজন মানুষকে কেড়ে নেয়নি, সঙ্গে নিয়ে গেছে পরিবারের স্বচ্ছলতাও।

তিনি বলেন, “আমাদের কোনো জমিজমা নেই। স্বামী মারা যাওয়ার পর সংসারের সব দায়িত্ব ছেলের কাঁধে এসে পড়েছে। তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চালাতে হয়।

অভাবের মধ্যেও সন্তানদের স্বপ্ন ছাড়তে রাজি নন স্যামলী। তিনি বলেন, আমার বড় ছেলে আর ছোট মেয়ে দুজনেই পড়াশোনায় খুব ভালো। অনেক কষ্ট হলেও আমি চাই তারা পড়াশোনা করে একদিন বড় অফিসার হোক।

অপূর্ব চন্দ্র রায়, সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। সে তারাগঞ্জের সায়েন্স ল্যাব স্কুলে পড়ে। তার ছোট বোন নীলা রানি (৯) একই স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। বাবার মৃত্যুর পর তাদের জীবনে নেমে আসে কঠিন বাস্তবতা।

অপূর্ব বলে, আমার বাবা মারা যাওয়ার পর আমাদের সংসারে অনেক অভাব নেমে এসেছে। বাবার একটা মুদির দোকান ছিল। বাবা মারা যাওয়ার পর দোকানটা বন্ধ হয়ে যায়। পরে এলাকার কিছু ভালো মানুষের সাহায্যে আবার দোকানটা চালু করি।

এখন অপূর্বের দিন শুরু হয় খুব ভোরে। সকাল বেলা বোনকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় স্কুলের উদ্দেশ্যে। যদি হাতে কিছু টাকা থাকে, তবে ভ্যানে যায়, না থাকলে পায়ে হেঁটেই ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার যাওয়া আসা করেন। দুপুরে বাড়ি ফিরে খাওয়া-দাওয়া শেষ করেই আবার ছুটতে হয় দোকানে।

অপূর্ব বলে দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত দোকানে বসি। বেচাকেনা করি। আগে খেলাধুলা করতাম, এখন আর সময় পাই না।

কথাগুলো বলতে বলতে অপূর্বের কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে।

অভাব-অনটনের মাঝেও পড়াশোনার প্রতি অদম্য ইচ্ছাশক্তি রয়েছে অপূর্ব ও তার বোনের। তারা দুজনেই ভালো ছাত্রছাত্রী হিসেবে পরিচিত। কিন্তু জীবনের কঠিন বাস্তবতা তাদের প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

অপূর্বের চোখে এখনও স্বপ্ন আছে কিন্তু সেই স্বপ্নের পথটা ভীষণ কঠিন। বাবার অনুপস্থিতিতে পরিবারটি আজ অসহায়। তবুও হাল ছাড়েনি তারা। সংগ্রাম আর আশা নিয়েই প্রতিটি দিন পার করছে এই ছোট্ট পরিবারটি।

এই পরিবারটির মতো অসংখ্য পরিবার সমাজের আড়ালে নীরবে লড়াই করে যাচ্ছে। একটু সহানুভূতি, একটু সহায়তা হয়তো বদলে দিতে পারে অপূর্বদের ভবিষ্যৎ ফিরিয়ে দিতে পারে হারিয়ে যাওয়া শৈশবের কিছুটা আলো।