আগামী অর্থ বছরের বাজেটে বিড়ি শিল্পে শুল্ক বৃদ্ধি না করা এবং নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানোর দাবিতে রংপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বিড়ি শ্রমিকরা। বৃহত্তর রংপুর অঞ্চল বিড়ি শ্রমিক ইউনিয়ন আজ ৬ মে বুধবার সকালে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঁচ দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। শ্রমিকদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, আসন্ন বাজেটে বিড়ি শিল্পের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি না করা, নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধি, বিড়ি শ্রমিকদের কর্মদিবস বাড়ানো, লাইসেন্সধারী বিড়ি কারখানার জন্য ব্যান্ডরোল উত্তোলন বাধ্যতামূলক করা এবং নকল বিড়ির উৎপাদন ও বাজারজাত বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিড়ি একটি দেশীয় ও শ্রমিকনির্ভর শিল্প, যা দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকার অন্যতম উৎস। বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলসহ সারা দেশে প্রায় ১৮ লক্ষ শ্রমিক এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু নীতিগত বৈষম্য ও বহুজাতিক কোম্পানির প্রভাবের কারণে দেশীয় বিড়ি শিল্প ক্রমেই সংকটে পড়ছে। তারা অভিযোগ করেন, বিদেশি সিগারেট কোম্পানিগুলোকে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ায় দেশীয় বিড়ি শিল্প প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে না।এতে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়েছে। বক্তারা আরও বলেন, দেশের তামাকজাত পণ্যের বাজারের বড় অংশ এখন নিম্নস্তরের সিগারেটের দখলে চলে গেছে, যা বিড়ি শিল্পের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারে ভারসাম্য আনতে নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য বাড়ানোর দাবি জানানো হয়। নকল বিড়ির উৎপাদন ও বাজারজাত বন্ধে কঠোর নজরদারি এবং আইন প্রয়োগেরও দাবি জানান শ্রমিক নেতারা। তাদের দাবি, অবৈধ নকল বিড়ির কারণে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি ক্ষতির মুখে পড়েছে বৈধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। দেশীয় শিল্প ধ্বংস হলে সরাসরি এর প্রভাব পড়বে প্রান্তিক শ্রমিকদের জীবনে। বিড়ি শিল্প রক্ষায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। বৃহত্তর রংপুর অঞ্চল বিড়ি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত লাবলুর সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আমিন উদ্দিন বিএসসি। এসময় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হারিক হোসেন, সহ-সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল গফুর ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম ইসলাম প্রমুখ। মানববন্ধনে অংশগগ্রহণ করা শ্রমিকদের হাতে বিভিন্ন শ্লোগান সম্বলিত ফেস্টুন দেখা যায়। এর মধ্যে ছিল দেশীয় শিল্প রক্ষা করো, বিড়ি শ্রমিক বাঁচাও, বহুজাতিক বেনিয়া হটাও এবং নকল বিড়ি বন্ধ করো। কর্মসূচি থেকে নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।