July 29, 2026, 4:24 pm
শিরোনাম:
গঙ্গাচড়ায় গর্তে রাস্তার বেহাল অবস্থা, দ্রুত সংস্কারের দাবি গাইবান্ধায় আড়াই বছর ধরে আটকে রয়েছে ৭টি সেতুর কাজ, ৪টি সেতুর কাজ শুরু হয়নি রামগতিতে পানির লাইন খুঁড়তে মিলল তিনটি মর্টার শেল সদৃশ বস্তু নীলফামারীতে র‍্যাব-১৩ এর উদ্যোগে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সুধী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দিনাজপুর পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ে “নাগরিক ভাবনাঃ আমাদের করণীয়” শীর্ষক নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের নবনিযুক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আকরাম এলাহী মাদকবিরোধী অভিযানে কৃতিত্বের স্বীকৃতি, সম্মানিত রাঙ্গামাটি পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন আলমগীর শরীয়তপুরে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ আটক ৩ জাপানে ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ১৩, চলছে উদ্ধার অভিযান জেন জি’রা আসছে, সাবধান ভারত

মেঘনা পাড়ে চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য: কমলনগরে কৃষকের ফসল জিম্মি, বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট অভিযোগ

কবির হোসেন রাকিব, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মেঘনা নদীবেষ্টিত চরকালকিনি ইউনিয়নের নাছিরগঞ্জের ‘মাঝেরচর’ এলাকায় কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, নৌপথের বিভিন্ন ঘাটে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছে।

স্থানীয়দের দাবি, চরকালকিনি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম সুমনের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। সিন্ডিকেটে ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আবদুল মজিদ মেম্বার, ৭ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি অদুদ মাঝি, স্বেচ্ছাসেবক দলের ইউনিয়ন সভাপতি ইসমাইল হোসেন সবুজ এবং বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি ফারুক বাঘা জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

কৃষকরা জানান, ধান, ভুট্টা, তরমুজসহ বিভিন্ন ফসল নৌপথে বাজারে নিতে গেলে প্রতি নৌকা, বস্তা বা পণ্য অনুযায়ী নির্ধারিত হারে চাঁদা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। চাঁদা না দিলে ঘাটে নৌকা ভিড়তে দেওয়া হয় না, এমনকি পণ্য আটকে রেখে হয়রানি করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তরমুজ প্রতি পিসে ৩ টাকা, ধান-সয়াবিন-মরিচের বস্তা প্রতি ৪০ টাকা, সিমেন্টের বস্তা প্রতি ১৫ টাকা এবং বালুবাহী বলগেট প্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এতে প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা এবং মাসে প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী কৃষকদের ভাষ্য, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করলেও ঘাটে চাঁদা দিতে গিয়ে তারা লাভ তো দূরের কথা, মূলধনই তুলতে পারছেন না। ফলে অনেকেই আগামী মৌসুমে চাষাবাদ বন্ধ করার কথা ভাবছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক বলেন, “প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। প্রতিদিনই ক্ষতির মুখে পড়ছি।”

অভিযোগের বিষয়ে ইব্রাহিম সুমন বলেন, বিআইডব্লিউটিএর অধীনে ঘাটের সাব-ইজারাদাররা নির্ধারিত হারে টোল আদায় করছে। তবে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

ঘাটের মূল ইজারাদার ভোলা জেলার সাবেরুল ইসলাম জানান, তার কাছ থেকে সাব-ইজারা নেওয়া ব্যক্তিকেও প্রভাবশালী একটি চক্র মানছে না এবং বেপরোয়াভাবে চাঁদা আদায় করছে।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদুল আলম জানান, ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চরাঞ্চলের কৃষকদের দাবি, অবিলম্বে এ চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করা হোক, যাতে তারা নির্বিঘ্নে তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে পারেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *