June 21, 2026, 8:07 am
শিরোনাম:
গরিব মানুষের আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে চান অ্যাডভোকেট খাতুনে জান্নাত বন্যা সাড়ে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, ইমামের বিরুদ্ধে বিচার দাবিতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পার্কিংয়ে রাখা সিএনজি নিয়ে চম্পট চোর, কুলাউড়ায় তোলপাড় রংপুরে নিয়োগ জালিয়াতি চক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার বাংলাদেশ এর কর্মসংস্থানের সুযোগ ও সম্প্রসারণ বর্তমান বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা গাইবান্ধা জেলা নির্মাণ (মিস্ত্রি) শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা পরিষদ গঠন বিএসএফের টাকার টোপে সীমান্তের দরিদ্ররা সহযোগিতা করছেন পুশ-ইনে বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে” — মাসুদ সাঈদী এমপি পূবাইলে কেমিক্যাল কারখানায় ভয়াবহ আগুন, ২০১৬ সালেও ঝরেছিল ৬ প্রাণ ফটিকছড়িতে বীর মুক্তিযোদ্ধার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, আত্মহত্যার আশঙ্কা!

পাইকগাছার বেহাল রাস্তা/ চলাচল থমকে, ঝুঁকিতে জনজীবন

শাহরিয়ার কবির, পাইকগাছা (খুলনা) থেকে:

খুলনার পাইকগাছা পৌরসভার শিববাটি মৌজার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে নাজুক হয়ে পড়া এই সড়কটি এখন এলাকাবাসীর জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে, স্বাভাবিক চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে এবং জনজীবন হয়ে ওঠে বিপন্ন। দ্রুত একটি কালভার্ট নির্মাণ এবং রাস্তা উঁচু করা এখন সময়ের দাবি।
পাইকগাছা জিরো পয়েন্ট থেকে কয়রা প্রধান সড়কে নামা প্রায় ২০০–২৫০ মিটার দীর্ঘ এবং ৩.২০ মিটার প্রশস্ত এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোগ পথ। সাবেক সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবুর বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দক্ষিণে অবস্থিত এই সড়কটি কয়রা-পাইকগাছা প্রধান সড়ক থেকে ব্যাংক কর্মকর্তা মশিউর রহমানের বাসস্থান পর্যন্ত বিস্তৃত। এলাকাবাসীর প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্য এটি একমাত্র সহজ পথ হলেও বর্তমানে এটি প্রায় অচল অবস্থায় রয়েছে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—রাস্তার মাঝখান দিয়ে একটি সরকারি খাল প্রবাহিত হলেও সেখানে কোনো ধরনের কালভার্ট নির্মাণ করা হয়নি। ফলে এলাকাবাসীকে বাধ্য হয়ে অন্যের ব্যক্তিগত জমির ওপর দিয়ে বিকল্প পথ ব্যবহার করে প্রধান সড়কে উঠতে হচ্ছে। এতে যেমন ঝুঁকি বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে সময় ও ভোগান্তিও।
স্থানীয় চিকিৎসক রাশেদ ইসলাম বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন স্কুল, বাজার ও অফিসে যেতে হয়। কিন্তু বর্ষার সময় এটি একেবারেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। দ্রুত একটি কালভার্ট নির্মাণ এবং রাস্তা উঁচু করা গেলে মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে যাবে।”
ভাড়াটিয়া সাইফুল ইসলাম জানান, “বর্ষার সময় অফিসে যেতে অনেক দেরি হয়। বাধ্য হয়ে অন্য রাস্তা দিয়ে ঘুরে যেতে হয়, এতে সময় ও খরচ—দুটোই বেড়ে যায়।”
কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের এক শিক্ষক বলেন, “আমরা পরিবার নিয়ে এখানে বসবাস করি। কিন্তু বর্ষা এলেই পানি জমে যাওয়ায় মূল রাস্তা ব্যবহার করা যায় না। কোথাও কোথাও রাস্তা ৮–৯ ফুট চওড়া থাকলেও খালের কারণে সেটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।”
এলাকাবাসী আরও জানান, রাস্তার এই নাজুক অবস্থার কারণে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্সও প্রবেশ করতে পারে না, যা যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা বক্কার বলেন, “রাস্তার কারণে বাড়ি নির্মাণের সামগ্রী আনা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেকেই বাড়ি নির্মাণ করতে পারছেন না। এতে এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম থমকে আছে।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে জনদুর্ভোগ।
তাদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে খালের ওপর একটি স্থায়ী কালভার্ট নির্মাণ এবং পুরো সড়কটি পাকা ও সমান উচ্চতায় উন্নীত করা হোক। এতে একদিকে যেমন স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করেছেন, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। কারণ, একটি ছোট অবকাঠামোগত উন্নয়নই পারে শিববাটির মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করে তুলতে।