লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার কয়েকটি প্রধান সড়ক এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এক মূর্তমান আতঙ্কের নাম। সংস্কারের নামে মাসখানেক ধরে রাস্তা খুঁড়ে ফেলে রাখায় সৃষ্ট ধুলোবালিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ধুলোর আস্তরণে সড়কের পাশের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও গাছপালা লাল হয়ে গেছে। দেখে মনে হয় এ যেন কোনো জনপদ নয়, এক ধূসর মরুভূমি। কর্তৃপক্ষের এমন চরম উদাসীনতায় ক্ষোভে ফুঁসছেন হাজার হাজার ভুক্তভোগী মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কমলনগর ওয়াবদা বেড়ি সড়কসহ করুনানগর-ফজুমিয়ারহাট সড়ক, কিল্লার রাস্তা এবং হাজিরহাট মিয়া পাড়া সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। কয়েক মাস আগে সড়কের দুপাশে ইটের কাজ সম্পন্ন হলেও অজানা কারণে প্রায় দুই মাস ধরে পুরো সড়কটি খুঁড়ে রাখা হয়েছে। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। যানবাহন চলাচলের সময় লাল ধুলোর এমন কুণ্ডলী তৈরি হয় যে, সাধারণ পথচারীদের চেনা দায় হয়ে পড়ে।
স্থানীয় দোকানদার মো. ছায়েম ও ব্যবসায়ী মো. বেলাল হোসেন জানান, ধুলোর কারণে দোকানের মালামাল নষ্ট হচ্ছে, যার ফলে তারা ব্যাপক ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। পথচারী মো. সেলিম ও শিক্ষার্থী নাজমা আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, “রাস্তায় বের হলেই ধুলোয় দম বন্ধ হয়ে আসে। সুস্থ মানুষও এই পথ দিয়ে গেলে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।”
পল্লী চিকিৎসক আলা উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন ধুলোবালির মধ্যে বসবাসের ফলে এলাকায় শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা ও অ্যালার্জিসহ নানা চর্মরোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা সবথেকে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। রান্নাবান্না থেকে শুরু করে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়াও এখন এলাকাবাসীর জন্য দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ— ঠিকাদাররা নিজেদের ইচ্ছেমতো কাজ করছেন। সড়কের উন্নয়নকাজে ধুলোবালি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানোর নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগের তীর সরাসরি উপজেলা এলজিইডি প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের দিকে। উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী
আব্দুল কাদের মোজাহিদের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর তদারকি চোখে পড়ছে না বলে দাবি স্থানীয়দের।
অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ জামানকে বিষয়টি জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এই বিষয়ে ঠিকাদারের প্রতিনিধি হাজী সেলিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মালামাল সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, “ঢালাইর মালামাল সংকটের কারণে কাজ একটু দেরি হচ্ছে। এছাড়া এই কাজে আমার অনেক টাকা লোকসান হচ্ছে।” তবে জনদুর্ভোগ কমাতে পানি ছিটানোর বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। অবিলম্বে এই জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।