চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত কমিটি নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন একটি স্ট্যাটাস দিয়ে আলোচনায় এসেছেন ছাত্রদল নেতা মোরশেদ হাসান। নতুন কমিটিতে স্থান না পাওয়ায় নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, ত্যাগ ও হতাশার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
স্ট্যাটাসের শুরুতেই নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের অভিনন্দন জানিয়ে মোরশেদ হাসান লেখেন,
“জেলা ছাত্রদলে যারা দায়িত্বে এসেছে তাদের কোনো দোষ নেই। কষ্ট নিয়ে হলেও অন্তত বলতে হয় অভিনন্দন।”
তবে এরপরই নিজের না-পাওয়ার বেদনা প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন—
“আমার কি কোনো শ্রম ছিল না—এভাবে মূল্যায়ন পাওয়ার জন্য?”
তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে তিনি উল্লেখ করেন,
“জাহিরুল ইসলাম চৌধুরী আলমগীর ভাইয়ের অনুসারী হয়ে ছাত্রদল করেছি, অথচ আজ জেলা ছাত্রদলের কমিটি থেকে বাদ পড়লাম। তাহলে কি আমাদের ত্যাগ, পরিশ্রম, সময়—সবই মূল্যহীন?”
স্ট্যাটাসে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান Tarique Rahman-এর নেতৃত্বের প্রতিও নিজের আস্থা ও আবেগের কথা তুলে ধরেন মোরশেদ। তিনি লেখেন,
“যে সংগঠনের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান, যার কথা শুনে, যার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজপথে থেকেছি—আজ সেই পথেই দাঁড়িয়ে নিজেকে অপরিচিত মনে হচ্ছে।”
তিনি আরও আক্ষেপ করে বলেন,
“মিছিলের শেষের ছেলেটাও হয়তো একসময় জায়গা পায়, কিন্তু শুরু থেকে থাকা মানুষের আজ কোনো কূল-কিনারা নেই।”
স্ট্যাটাসের একপর্যায়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন মোরশেদ হাসান। তিনি লেখেন,
“আজ কোনো অভিমান নেই কারো প্রতি—অভিযোগ শুধু নিজের কাছে। হয়তো ভুল জায়গায়, ভুল মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম।”
এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন,
“Miskatul Islam Chowdhury Pappa ভাইয়ের অনুসারী হয়ে ছাত্রদল না করার অপরাধে—আমাদের জীবনের সোনালী দিনগুলো যেন মাটিচাপা পড়ে গেল।”
সবশেষে মহান আল্লাহর কাছে বিচার দিয়ে তিনি লেখেন,
“সব কিছুর বিচার আল্লাহর কাছে দিলাম। তিনি-ই উত্তম বিচারক, সঠিক পরিকল্পনাকারী।”
মোরশেদ হাসানের এই আবেগঘন স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই তার দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভূমিকা ও ত্যাগের বিষয়টি স্মরণ করে সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। আবার কেউ কেউ এটিকে ছাত্ররাজনীতিতে ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলার একটি প্রতিচ্ছবি বলেও মন্তব্য করছেন।