ঝিনাইদহের মহেশপুরে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এক সাব-ডিলারের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের গোপালপুর গ্রামের সাব-ডিলার শ্রী হারান দাস কর্তৃক পাচারের সময় ১৫ বস্তা সরকারি সার সহ আটক করেন স্থানীয় জনগণ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় , মহেশপুর পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের অনুমোদিত সাব-ডিলার শ্রী হারান দাস দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ কৃষকদের সার নেই বলে ফিরিয়ে দিচ্ছিলেন।
অথচ বৃহস্পতিবার একটি ভ্যানে করে সার পাচারের সময় গাড়াবাড়ীয়া গ্রামের ভেতরে ভ্যানের এক্সেল ভেঙে গেলে বিপত্তি ঘটে। এসময় স্থানীয়দের মনে সন্দেহ জাগে এবং ভ্যানটি তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিতে ৮ বস্তা সরকারি ‘বাংলা টিএসপি’ এবং ৭ বস্তা ‘ইউরিয়া’ সার পাওয়া যায়। কৃষকদের অভিযোগ, শ্রী হারান দাস অধিক মুনাফার লোভে চঞ্চল নামক এক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অসাধু চক্রের কাছে এই সার পাচার করছিলেন। তার গুদামে মজুত থাকা টিএসপি সারও নির্ধারিত মূল্যের দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাব-ডিলার শ্রী হারান দাসের কাছে জানতে চাইলে তিনি পাচারের বিষয়টি স্বীকার করে দম্ভোক্তি করে বলেন,বাইরে বিক্রি করলে দোষ কিসের? আমি উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের সাথে কথা বলেই এগুলো বিক্রি করতে যাচ্ছিলাম।
তবে উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন,আমি এ ধরনের কোনো অনুমতি দিইনি। সাব-ডিলার হারান দাসের সার ধরা পড়ার বিষয়টি আমি শুনেছি। সরকারি সার কালোবাজারে বিক্রির সুযোগ নেই।”
স্থানীয় কৃষকরা জানান, চাষের ভরা মৌসুমে সারের জন্য ডিলারের কাছে গেলে সার নেই বলে ফিরিয়ে দেন। অথচ ডিলাররা সিন্ডিকেট করে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অধিক দামে বাইরে সার পাচার করছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সারসহ ধরা পড়ার পর সাব-ডিলার শ্রী হারান দাস স্থানীয় মানুষের হাতে-পায়ে ধরে ক্ষমা চেয়ে কৌশলে আটককৃত সারগুলো পুনরায় খালিশপুরের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেন। এই ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত ডিলারের লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনগত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।