July 29, 2026, 4:59 pm
শিরোনাম:
গঙ্গাচড়ায় গর্তে রাস্তার বেহাল অবস্থা, দ্রুত সংস্কারের দাবি গাইবান্ধায় আড়াই বছর ধরে আটকে রয়েছে ৭টি সেতুর কাজ, ৪টি সেতুর কাজ শুরু হয়নি রামগতিতে পানির লাইন খুঁড়তে মিলল তিনটি মর্টার শেল সদৃশ বস্তু নীলফামারীতে র‍্যাব-১৩ এর উদ্যোগে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সুধী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দিনাজপুর পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ে “নাগরিক ভাবনাঃ আমাদের করণীয়” শীর্ষক নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের নবনিযুক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আকরাম এলাহী মাদকবিরোধী অভিযানে কৃতিত্বের স্বীকৃতি, সম্মানিত রাঙ্গামাটি পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন আলমগীর শরীয়তপুরে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ আটক ৩ জাপানে ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ১৩, চলছে উদ্ধার অভিযান জেন জি’রা আসছে, সাবধান ভারত

মধুপুর গড়ের ইতিহাস, লেখক শেখ মোঃ শামছুল হক

রিপোর্টার মোঃ রুবেল মাহমুদ, জামালপুর থেকে:

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ মধুপুর গড়। টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা এই শালবন একসময় ছিল ঘন অরণ্যে আচ্ছাদিত। প্রাচীনকাল থেকেই মধুপুর গড় বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। এখানে গারোসহ নানা সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও জীবনধারা ধরে রেখেছে। জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এই বনাঞ্চল দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
এই ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলেরই কৃতি সন্তান ও গবেষক-লেখক শেখ মোঃ শামছুল হক। তিনি ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা শেখ মোঃ নহর উদ্দিন ছিলেন এলাকার সম্মানিত মাতব্বর এবং মাতা মোছাঃ ছুরতন নেছা।
শামছুল হকের শিক্ষাজীবন শুরু হয় শোলাকুড়ী আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর তিনি শোলাকুড়ী জুনিয়র হাইস্কুলে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে নরুন্দী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে জামালপুর আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট (আই.এ) সম্পন্ন করেন এবং ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে বাণিজ্য বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে শোলাকুড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু হয়। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি অসংখ্য কৃতী শিক্ষার্থী গড়ে তুলেছেন এবং একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষাবিদ হিসেবে এলাকায় সুপরিচিতি লাভ করেন।
প্রকৃতি ও অরণ্যের প্রতি তার ছিল গভীর অনুরাগ। যে অরণ্যে তিনি বেড়ে উঠেছেন, সেই মধুপুর গড়ই হয়ে ওঠে তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অরণ্যের জীবন, প্রাণীকুল ও প্রকৃতির নীরব ভাষা তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন এবং তার লেখনীর মাধ্যমে তা তুলে ধরেছেন। অরণ্যের মাঝে জীবনের সার্থকতা খুঁজে পাওয়াই ছিল তার জীবনের ব্রত।
তার রচিত “মধুপুর গড়ের ইতিহাস” গ্রন্থটি এই অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য, পরিবেশ ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার এক অনন্য প্রয়াস। এই গ্রন্থের মাধ্যমে মধুপুর গড়ের অজানা অনেক দিক পাঠকের সামনে উন্মোচিত হয়েছে।
শেখ মোঃ শামছুল হকের জীবন ও কর্ম মধুপুর গড়ের ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তার গবেষণা ও সাহিত্যকর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মূল্যবান সম্পদ হয়ে থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *