বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ মধুপুর গড়। টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা এই শালবন একসময় ছিল ঘন অরণ্যে আচ্ছাদিত। প্রাচীনকাল থেকেই মধুপুর গড় বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। এখানে গারোসহ নানা সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও জীবনধারা ধরে রেখেছে। জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এই বনাঞ্চল দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
এই ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলেরই কৃতি সন্তান ও গবেষক-লেখক শেখ মোঃ শামছুল হক। তিনি ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা শেখ মোঃ নহর উদ্দিন ছিলেন এলাকার সম্মানিত মাতব্বর এবং মাতা মোছাঃ ছুরতন নেছা।
শামছুল হকের শিক্ষাজীবন শুরু হয় শোলাকুড়ী আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর তিনি শোলাকুড়ী জুনিয়র হাইস্কুলে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে নরুন্দী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে জামালপুর আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট (আই.এ) সম্পন্ন করেন এবং ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে বাণিজ্য বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে শোলাকুড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু হয়। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি অসংখ্য কৃতী শিক্ষার্থী গড়ে তুলেছেন এবং একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষাবিদ হিসেবে এলাকায় সুপরিচিতি লাভ করেন।
প্রকৃতি ও অরণ্যের প্রতি তার ছিল গভীর অনুরাগ। যে অরণ্যে তিনি বেড়ে উঠেছেন, সেই মধুপুর গড়ই হয়ে ওঠে তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অরণ্যের জীবন, প্রাণীকুল ও প্রকৃতির নীরব ভাষা তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন এবং তার লেখনীর মাধ্যমে তা তুলে ধরেছেন। অরণ্যের মাঝে জীবনের সার্থকতা খুঁজে পাওয়াই ছিল তার জীবনের ব্রত।
তার রচিত “মধুপুর গড়ের ইতিহাস” গ্রন্থটি এই অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য, পরিবেশ ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার এক অনন্য প্রয়াস। এই গ্রন্থের মাধ্যমে মধুপুর গড়ের অজানা অনেক দিক পাঠকের সামনে উন্মোচিত হয়েছে।
শেখ মোঃ শামছুল হকের জীবন ও কর্ম মধুপুর গড়ের ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তার গবেষণা ও সাহিত্যকর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মূল্যবান সম্পদ হয়ে থাকবে।