“মাদকমুক্ত করবো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”— এই স্লোগানকে সামনে রেখে মাদকের ভয়াবহতা রোধ ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে মাদকবিরোধী র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বাঁশখালী থানা পুলিশের আয়োজনে ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে মাদকবিরোধী র্যালিটি শুরু হয়। পরে এটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। র্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত সমাবেশে মাদকের ভয়াবহতা, এর ক্ষতিকর প্রভাব এবং মাদক নির্মূলে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই ধ্বংস করে না; এর নেতিবাচক প্রভাব পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপরও পড়ে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের করালগ্রাস থেকে রক্ষা করা এখন বড় সামাজিক দায়িত্ব। এজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সর্বস্তরের নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তারা বলেন, মাদক নির্মূলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। পরিবারের সদস্যদের সন্তানদের প্রতি নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, মাদক কারবারি ও মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে। কোথাও মাদক বিক্রি, পরিবহন বা সরবরাহের তথ্য পাওয়া গেলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সমাবেশ থেকে বাঁশখালীকে মাদকমুক্ত করতে সামাজিক প্রতিরোধ জোরদার, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান অব্যাহত রাখা এবং তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন। এছাড়া বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রবিউল হক, জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, পুলিশ সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা মাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং বাঁশখালীকে মাদকমুক্ত করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।