July 29, 2026, 4:57 pm
শিরোনাম:
গঙ্গাচড়ায় গর্তে রাস্তার বেহাল অবস্থা, দ্রুত সংস্কারের দাবি গাইবান্ধায় আড়াই বছর ধরে আটকে রয়েছে ৭টি সেতুর কাজ, ৪টি সেতুর কাজ শুরু হয়নি রামগতিতে পানির লাইন খুঁড়তে মিলল তিনটি মর্টার শেল সদৃশ বস্তু নীলফামারীতে র‍্যাব-১৩ এর উদ্যোগে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সুধী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দিনাজপুর পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ে “নাগরিক ভাবনাঃ আমাদের করণীয়” শীর্ষক নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের নবনিযুক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আকরাম এলাহী মাদকবিরোধী অভিযানে কৃতিত্বের স্বীকৃতি, সম্মানিত রাঙ্গামাটি পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন আলমগীর শরীয়তপুরে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ আটক ৩ জাপানে ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ১৩, চলছে উদ্ধার অভিযান জেন জি’রা আসছে, সাবধান ভারত

সিটি কর্পোরেশনের পথে কক্সবাজার: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ!

মুজিবুল হাসান ছোটন (কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি)

১৮৬৯ সালে যাত্রা শুরু হয়েছিল কক্সবাজার পৌরসভার। বিশ্বের দীর্ঘতম বালুকাময় সমুদ্র সৈকতের শহর এবং প্রায় ১৫৭ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী কক্সবাজার পৌরসভাকে দেশের নতুন সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার আনুষ্ঠানিক রূপান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান. তিনি জানান, এই প্রাচীন পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর করতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ইতিমধ্যেই স্থানীয় সরকার বিভাগকে সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রশাসনিক সক্ষমতা মূল্যায়নের জন্য জরুরি নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। এই ঘোষণার পর থেকে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজারের সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক উদ্দীপনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে এক মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

সিটি কর্পোরেশন হতে কী কী যোগ্যতা লাগে?

একটি পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর করতে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন অনুযায়ী বেশ কিছু কঠোর শর্ত বা আইনি মানদণ্ড পূরণ করতে হয়:

১. আয়তন ও ভৌগোলিক অবস্থান: সাধারণত ন্যূনতম ২৫ বর্গ কিলোমিটার বা তার বেশি এলাকা প্রয়োজন হয়. বর্তমান কক্সবাজার পৌরসভার নিজস্ব আয়তন প্রায় ৩৩ বর্গ কিলোমিটার, যা এই শর্ত অনায়াসেই পূরণ করে.

২. জনসংখ্যা ও ঘনত্ব: এলাকাটিতে স্থায়ী ও ভাসমান জনসংখ্যার একটি বিশাল ঘনত্ব থাকতে হবে। কক্সবাজারে স্থায়ী বাসিন্দার পাশাপাশি প্রতিদিন লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটে.

৩. বার্ষিক নিজস্ব আয়: বিদ্যমান পৌরসভার নিজস্ব উৎস থেকে বার্ষিক আয় ন্যূনতম ১০ কোটি টাকা হওয়া আবশ্যক। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার পৌরসভার বর্তমান বার্ষিক আয় প্রায় ৩২ থেকে ৩৫ কোটি টাকা, যা আইনি চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি.

৪. বাণিজ্যিক ও অবকাঠামোগত গুরুত্ব: অকৃষিজ পেশাজীবীর সংখ্যা বেশি হতে হবে এবং ফাইভ স্টার হোটেল, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও অর্থনৈতিক জোনসহ বড় বাণিজ্যিক অবকাঠামো থাকতে হবে।

সিটি কর্পোরেশন হলে কক্সবাজারের কী লাভ বা সুবিধা হবে?

জনপ্রতিনিধি ও নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, সিটি কর্পোরেশন হলে কক্সবাজারের উন্নয়ন এক নতুন মাত্রা পাবে:

মেগা বাজেট ও আন্তর্জাতিক অনুদান: সরাসরি বড় অংকের সরকারি বরাদ্দ পাওয়া যাবে। পাশাপাশি সরকার ঘোষিত দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে.

নাগরিক সেবার আধুনিকায়ন: আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসন এবং মশা নিধনের মতো সেবাগুলো শক্তিশালী জনবল নিয়ে পরিচালনা করা সম্ভব হবে.

পর্যটনের আন্তর্জাতিকীকরণ: আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা ও পর্যটক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এটি আন্তর্জাতিক একটি হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

সম্ভাব্য ক্ষতি বা অসুবিধা কী?

সুবিধার পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ জনগণের ওপর কিছু আর্থিক ও নিয়মকানুনের চাপ বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা:

ট্যাক্স ও ফি বৃদ্ধি: হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স ফি ও পানির বিলসহ অন্যান্য ইউটিলিটি খরচ পৌরসভার তুলনায় কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি: নতুন করে ব্যবসা বা আবাসন গড়ার খরচ বাড়বে। জমি ও ফ্ল্যাটের দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ ও নিম্নবিত্ত ভাড়াটিয়াদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে।

কঠোর আইনি কড়াকড়ি: নকশা অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ বা যত্রতত্র সাইনবোর্ড ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানা আরোপ হবে, যা সাধারণ নাগরিকদের প্রাত্যহিক অভ্যাসে সাময়িক জটিলতা তৈরি করতে পারে।

সচেতন মহলের ভাবনা:

স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলের মতে, সীমিত জনবল নিয়ে বর্তমান কক্সবাজার পৌরসভা লাখ লাখ মানুষের নাগরিক সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছিল. তবে সিটি কর্পোরেশন হলে যেন কেবল করের বোঝাই না বাড়ে, বরং পর্যটন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিশ্চিত হয় সরকারের কাছে এটিই এখন সাধারণ মানুষের মূল দাবি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *