গার্মেন্টসে রাত-দিন পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ নিজের জন্য ব্যয় না করে প্রেমিকের লেখাপড়া ও ব্যক্তি খরব নির্বাহ করে এক তরুণী। দীর্ঘদিন প্রেম ও চার বছর ধরে প্রেমিকের পড়াশোনা ও ব্যক্তিগত খরচ চালানোর পর সংসারে সুখের বুক ভরা আশা নিয়ে সেই প্রেমিক বিয়ে করে গার্মেন্টস কর্মী। দীর্ঘ দিনের প্রেমের স¤পর্কের পূর্ণতা দিতে গোপনে বিয়ে করলেও সেই সংসার মাত্র তিন মাসের মধ্যে ভেঙ্গে যায়। বিচ্ছেদের পর নিজের অধিকার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে প্রাক্তন স্বামীর বাড়ির সামনে অনশন করছে সেই তরুনী। ঘটনাটি কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের ডাওয়াইটারী নয়াগ্রাম এলাকায়। অভিযুক্ত যুবকের নাম শফিউল ইসলাম শাহিন। গত ২৪ জুলাই শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়, অভিযুক্ত যুবকের বাড়ির মূল ফটকের সামনে বোরকা পরিহিত ওই তরুণী অবস্থান করছেন। বাড়ির ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলেও পরিবারের সদস্যরা তাকে বাধা দেন বলে তিনি অভিযোগ করে। এ সময় ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড় করতে দেখা যায়। অনশনরত তরুণীর দাবি, ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করে তিনি চার বছর ধরে শাহিনের পড়াশোনা, থাকা-খাওয়া ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন খরচ নির্বাহ করেছেন। পারিবারিকভাবে স¤পর্ক মেনে না নেওয়ায় তারা গোপনে বিয়ে করেন। তবে বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় ডাকযোগে তালাকনামা পান তিনি। তার অভিযোগ, তালাকনামা পাওয়ার পরও কিছুদিন তাদের দা¤পত্য স¤পর্ক চলছিল। ওই সময় তাকে ঔষধ খাওয়াইয়ে গর্ভপাত করানো হয় বলেও তিনি অভিযোগ করে। পরে তালাকের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহিন আত্মগোপন করেন। স্বামীর খোঁজে তার গ্রামের বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যরা তাকে মারধর করে বের করে দিয়ে বাড়ির মূল ফটক বন্ধ করে দেন। এরপর থেকেই তিনি বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে অনশন করছেন। অনশনরত তরুণী বলেন, গার্মেন্টসে রাত-দিন পরিশ্রম করে চার বছর ওর পড়াশোনা ও সব খরচ চালিয়েছি। বিশ্বাস ছিল আমাদের সুন্দর একটি সংসার হবে। কিন্তু বিয়ের তিন মাসের মধ্যেই আমাকে তালাক দেওয়া হয়েছে। আমি ন্যায়বিচার ও স্ত্রীর মর্যাদা চাই। বিচার না পাওয়া পর্যন্ত এখানে অবস্থান করবো। এ বিষয়ে শফিউল ইসলাম শাহিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরিবারের সদস্যগণ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। চিলমারী থানার এসআই সবুজ মিয়া বলেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।