টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার লাখো মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকের বসতঘর পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত বা বিলীন হয়ে যাওয়ায় তারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে উঁচু স্থানে অবস্থান নিয়েছেন। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও জরুরি ত্রাণ সহায়তার সংকট দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে।
এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বাঁশখালীর দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন বাঁশখালী পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রদল সভাপতি মোশাররফ হোসেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “বাঁশখালীর মানুষ আজ চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয়কেন্দ্র ও বিভিন্ন উঁচু স্থানে অবস্থান করছে। এই দুর্যোগে দ্রুত সরকারি সহায়তা, পর্যাপ্ত ত্রাণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম অত্যন্ত জরুরি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি বাঁশখালী সফর করে দুর্গত মানুষের দুর্দশা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ সাহস ও আশার আলো পাবে।”
তিনি আরও স্মরণ করেন, ১৯৯১ সালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ক্ষতিগ্রস্ত বাঁশখালী পরিদর্শন করে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং তাৎক্ষণিক ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেছিলেন। সেই মানবিক দৃষ্টান্তের ধারাবাহিকতায় বর্তমান দুর্যোগেও বাঁশখালীবাসী প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক সহযোগিতা ও উপস্থিতি প্রত্যাশা করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে সাবেক মন্ত্রী ও বাঁশখালীর প্রয়াত জননেতা মরহুম আলহাজ্ব জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর অবদানের কথাও তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, ১৯৯১ সালের দুর্যোগ থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি সময়ে বাঁশখালীর মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে ছিলেন মরহুম জাফরুল ইসলাম চৌধুরী। সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী থাকাকালেও তিনি মানবিক নেতৃত্বের মাধ্যমে অসহায় মানুষের সহযোগিতায় নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। বর্তমান দুর্যোগে বাঁশখালীর মানুষ তাঁকে গভীরভাবে স্মরণ করছে।
এদিকে, মরহুম জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর সুযোগ্য উত্তরসূরি দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা কয়েকদিন ধরে দুর্গত এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিচ্ছেন। তিনি নিজস্ব উদ্যোগে শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা বিতরণ করছেন এবং গভীর রাত পর্যন্ত বন্যাকবলিত, গৃহহীন ও অসহায় মানুষের পাশে থেকে তাদের দুর্ভোগ লাঘবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মোশাররফ হোসেন বলেন, “বাঁশখালীর এই মানবিক সংকটে সরকার, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি এবং সকল মানবিক সংগঠনকে এগিয়ে আসতে হবে। সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এত বড় দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।”
তিনি দ্রুত পর্যাপ্ত ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা, নিরাপদ আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেন।