July 4, 2026, 2:26 pm
শিরোনাম:
এডিবির প্রতিনিধি দলের সাথে সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় শরীয়তপুরের রুদ্রকর ইউনিয়নে খালের পলি অপসারণ কাজ পরিদর্শন করলেন এমপি সাঈদ আহমেদ আসলাম ‎​কামারখন্দে ৩ দিনব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ-২০২৬’ উদযাপনঃ আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন কোনো ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম বরদাশত করা হবে না, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী তারাতলা কান্ডে উদ্ধার কাজে যুক্ত ব্যাক্তিদের সম্মান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কাকদ্বীপে, মথুরাপুর বিজেপি র ১, নাম্বার মন্ডল কমিটির প্রশিক্ষণ কর্মশালা উদ্বোধন গাইবান্ধায় সুস্বাদু আঙ্গুর চাষ হচ্ছে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন, এর নির্দেশনায় বিভিন্ন উপজেলায় একাধিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা গাইবান্ধায় ইয়াবা সেবনকালে দুই যুবক গ্রেফতার জিয়ানগরে বলেশ্বর নদীতে ট্রলার থেকে পড়ে জেলে নিখোঁজ, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত

গাইবান্ধায় সুস্বাদু আঙ্গুর চাষ হচ্ছে

এস,এম শাহাদৎ হোসাইন, রংপুর

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার যুগিবাড়ি গ্রামের কৃষক পরিবারে জন্ম জুয়েল মিয়া (২৫) নামে এই যুবক। গ্রামেই তাঁর বেড়ে ওঠা। মা-বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলে লেখাপড়া করে চাকরি করবে। স্বপ্ন পূরণে জুয়েল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেন। চেষ্টা করেও তাঁর চাকরি হয়নি। কিছুদিন বেকার থাকে। ইউটিউব দেখে বিদেশি আঙ্গুর উৎপাদনের কৌশল শেখেন। প্রথমে পাঁচ শতক জমিতে অ আঙ্গুর চাষ শুরু করেন জুয়েল। এখন ২৫ শতক জমিতে ৩৬ জাতের বিদেশি আঙ্গুর চাষ করছেন। পাশাপাশি তিনি আঙ্গুরের চারাও তৈরি করছেন। আঙ্গুর ও চারা বিক্রি করে এখন তাঁর মাসিক আয় প্রায় ৩০ হাজার টাকা। জুয়েল মিয়া ২০১৪ সালে স্থানীয় এক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। পরে পলাশবাড়ী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং (সিভিল) পাস করেন। ছোট দুই বোন লিমা আক্তার ও লিকসা আক্তার লেখাপড়া করছে। ২০২৪ সালে জুয়েল বিয়ে করেন। মা জুলেখা বেগম, বাবা আনছার আলী ও স্ত্রী মাহফুজা খাতুনকে নিয়ে তাঁর ছয় সদস্যের পরিবার। কৃষি কাজ করেই তাঁর সংসার চলে। গাইবান্ধা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে সাদুল্লাপুরের ইদিলপুর ইউনিয়নের যুগিবাড়ি গ্রাম। সরেজমিনে দেখা যায়, পাকা সড়কের পাশে ঝুলছে একটি সাইন বোর্ড। লেখা জুয়েল নার্সারি। ভেতরে গাছে ঝুলছে থোকা থোকা আঙ্গুর। পাখি ও পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে একধরনের ব্যাগ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে আঙ্গুর। জুয়েল মিয়া আঙ্গুর গাছের পরিচর্যা করছেন। বাগানে লোক আসছে। তাঁদের আঙ্গুর খাওয়াচ্ছেন। মিষ্টি আঙ্গুর দেখে অনেকে ক্রয় করছেন। কেউ আবার আসছেন চারাগাছ ক্রয় করতে। চারাগাছের দাম আকার অনুযায়ী, ২০০ থেকে ৪০০ টাকা। বাগানে আসা গাইবান্ধা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী বায়েজিদ মিয়া বলেন, জুয়েল চাচার বাগানে একসঙ্গে অনেক জাতের আঙ্গুর আছে। খেয়েছি, বেশ সুস্বাদু। উদ্যোক্তা জুয়েল মিয়া বলেন, ২০২২ সালে প্রথমে পাঁচ শতক জমিতে আঙ্গুর গাছ রোপণ করা হয়। পরের বছর ফল আসে। কিন্তু সেগুলো কম মিষ্টি ছিল, কিছুটা টক। পরে মিষ্টি জাতের আঙ্গুর দেশে আছে কি না, তা জানতে ইউটিউবে খুঁজতে শুরু করি। ইউটিউব দেখে আঙ্গুর চাষের কৌশল ও পরিচর্যা করা শিখি। ২০২৩ সালে কুড়িগ্রামের এক চাষির কাছ থেকে মাত্র পাঁচটি আঙ্গুরের চারা সংগ্রহ করা হয়। ফল হলে খেয়ে দেখি, সেগুলো মিষ্টি। এরপর ওই সব গাছে কলম দিতে থাকি। এভাবে আঙ্গুর গাছের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এখন বাবার ২৫ শতক জমিতে প্রায় ১১০টি গাছে ৩৬ জাতের আঙ্গুর রয়েছে। বর্তমানে ২৫ শতক জমিতে বাইকুনুর, জয় সিডলেস, গ্রিন লং, ক্রিমসন সিডলেস সহ ৩৬ জাতের বিদেশি আঙ্গুর চাষ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আঙ্গুরের চারাও উৎপাদন হচ্ছে। জুয়েলের স্ত্রী মাহফুজা খাতুন বলেন, আঙ্গুর চাষে তাকে সহযোগিতা করি। জুয়েল মিয়া বলেন, অ আঙ্গুর ও চারা বিক্রি করে তাঁর মাসিক আয় প্রায় ৩০ হাজার টাকা। ২৫ শতক জমিতে আঙ্গুর চাষে তাঁর প্রায় দুই লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি আঙ্গুর ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করছেন। আঙ্গুর চাষে প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে জুয়েল মিয়া বলেন, যখন আঙ্গুর পাকা শুরু করে, তখন অতিমাত্রায় বৃষ্টি হলে ফলে পচন ধরে। এবার অনেক ফল নষ্ট হয়েছে। বিদেশে বাগানগুলোতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। ইউটিউবের ভিডিওতে দেখা যায়, বিদেশে পলি, নেট ইত্যাদি ব্যবহার করা হচ্ছে। আমাদের দেশে এভাবে করতে পারলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। এমনকি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করে বিদেশেও রপ্তানি করা যেতে পারে। ইদিলপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা লিটন মিয়া বলেন, উদ্যোক্তা জুয়েল মিয়া আঙ্গুর চাষে সফল হয়েছে। তাঁর বাগানে ফলনও ভালো হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে তাঁকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।