July 3, 2026, 7:11 am
শিরোনাম:
মিরপুর জিয়া কলেজের প্রিন্সিপাল আলমগীরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড় ত্রিশাল উপজেলার কৃষকের মাঝে বীজ ও সার প্রণোদনা বিতরণ মেসির জন‍্য কেপ ভার্দের বিশেষ উপহার পাইকগাছায় জেলা পরিষদের প্রকল্পের চিঠি হস্তান্তর ও শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ! নড়িয়ার উন্নয়ন, রাজনীতি ও জনস্বার্থ নিয়ে খোলামেলা বক্তব্য রাখলেন ফরিদ আহমেদ রয়েল মাঝি উল্লাপাড়ায় ৩৪৯০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার,বীজ বিতরণ বুড়িরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হলেন অ্যাড. মনিরুজ্জামান খান (দিপু) হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন নাগরপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘নজরুল বর্ষ’ উদ্বোধন কমলনগরে এক রাতে সাংবাদিকের বাড়িসহ ১০টি বসতঘরে দুর্ধর্ষ চুরি: নগদ টাকা, মোবাইল ও স্বর্ণালঙ্কার লুট

মিরপুর জিয়া কলেজের প্রিন্সিপাল আলমগীরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়

​বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা:

মামলা করায় সহকর্মী বাদলের পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ

রাজধানীর মিরপুর ১২ অবস্থিত জিয়া কলেজের বর্তমান প্রিন্সিপাল আলমগীরের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মামলা তুলে নিতে সহকর্মীর ওপর বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।

বিগত সরকারের পতনের পরও বহাল তবিয়তে থাকা এই কলেজ প্রধানের বিপুল সম্পদের খতিয়ান এখন মিরপুরবাসীর মুখে মুখে। দুর্নীতি ঢাকতে তিনি ও তার লেলিয়ে দেওয়া বাহিনী এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে জানা গেছে।

​অনুসন্ধানে উঠে আসা সম্পদের পাহাড়

​অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রিন্সিপাল আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির একটি বড় অংশই বৈধ আয়ের উৎসের সাথে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ। বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী তার সম্পদের তালিকায় রয়েছে:

​মিরপুর মুসলিম বাজার: মুসলিম বাজারে দুটি মূল্যবান বাণিজ্যিক দোকানের পজিশন কেনা রয়েছে তার নামে।

​আবাসিক ফ্ল্যাট: রাজধানীর একটি অভিজাত এলাকায় রয়েছে তার নিজস্ব একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট।

​রাজউক প্লট: উত্তরা এলাকায় রাজউকের একটি কোটি টাকা মূল্যের প্লটের মালিকানা রয়েছে তার।

​গ্রামে বিপুল অর্থ ব্যয়: নিজের পৈতৃক গ্রামে বিপুল অর্থ ব্যয়ে একটি মসজিদ ও একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করে দিয়েছেন তিনি, যার অর্থের উৎস নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠেছে।

​রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও সাক্ষাৎকারে ‘স্বীকারোক্তি’

​অভিযোগ রয়েছে, প্রিন্সিপাল আলমগীর বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তীব্র রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতেন এবং দলীয় মিছিল-মিটিংয়ে তার নিয়মিত ও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল।

​সম্প্রতি এই বিষয়ে অনুসন্ধানী দল তাকে সরাসরি প্রশ্ন করলে তিনি নিজেই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি অকপটে জানান যে, তৎকালীন সময়ে তিনি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে যেতেন। এমনকি তার বিপুল সম্পদের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রথমে তা অস্বীকার না করে এক প্রকার স্বীকারোক্তিই দেন।

​সাক্ষাৎকারের চিত্র: সম্পদের বিষয়ে কথা বলার সময় প্রিন্সিপাল আলমগীর নিজের সুরক্ষায় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী দুজনকে সাথে নিয়ে আসেন। তাদের মধ্যে একজন উক্ত কলেজেরই শিক্ষক এবং অন্যজন কলেজে কর্মরত কর্মকর্তা।

​মামলা করায় শিক্ষকের ওপর বর্বরোচিত হামলা

​প্রিন্সিপাল আলমগীরের এই লাগামহীন দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত আইনি পদক্ষেপ নেন কলেজেরই এক শিক্ষক। আলমগীরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও আদালতে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।

​কিন্তু মামলা দায়েরের পর থেকেই শুরু হয় চরম প্রতিহিংসা। মামলার জের ধরে প্রিন্সিপাল আলমগীরের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসী বাহিনী বাদল নামের ওই ব্যক্তির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে বাদলের পা ভেঙে দেয়।

বর্তমানে তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শুধু হামলা নয়, মামলাটি সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়ার জন্য বাদল ও তার পরিবারকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

​প্রিন্সিপাল ও এলাকাবাসীর বক্তব্য

​পরবর্তীতে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে প্রিন্সিপাল আলমগীরের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হননি। একপর্যায়ে তার সম্পত্তির বিষয়ে পুনরায় জানতে চাইলে তিনি পূর্বের অবস্থান থেকে সরে এসে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন:

​”আমি সৎ পথে উপার্জন করি। আমি এসব (দুর্নীতি) করে কী করব? আমার বিরুদ্ধে সব মিথ্যা ছড়ানো হচ্ছে।”

​তবে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী ও সচেতন মহল এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। তারা জানান:

​”প্রিন্সিপালের সম্পদের যে খতিয়ান রয়েছে, তা যদি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সঠিক তদন্ত করে, তবে তিনি এক পয়সার সম্পত্তিরও বৈধ হিসাব দিতে পারবেন না।”

​একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মিরপুরের সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। সচেতন মহল অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ প্রিন্সিপালের অপসারণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।