চট্টগ্রামে জুলাই গ্রাফিতি আঁকতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে রংপুরে গ্রাফিতির পুনর্লিখন এবং আঁকা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছে মহানগর জাতীয় ছাত্রশক্তি। পর্যায়ক্রমে নগরীর সবগুলো দেয়াল পুনর্লিখন করবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী এই ছাত্র সংগঠনটি। আজ ১৯ মে মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর নগরীর ৩৬ জুলাই স্মৃতিসৌধ চত্ত্বরের পাশে জেলা পরিষদের দেয়ালে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন স্লোগান ও গ্রাফিতি অংকন করে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা বলেন, চট্টগ্রামে জুলাইয়ের গ্রাফিতি মুছে ফেলা ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে তারা দেয়াল পুনর্লিখন এবং গ্রাফিতি অংকন করছে। জুলাইয়ের স্মৃতি যাতে কেউ মুছে দিতে না পারে, সেজন্য অভ্যুত্থানের অনুপ্রেরণামূলক স্লোগান, মন্তব্য ও মুহূর্তগুলোকে তারা আবারও রং-তুলির মাধ্যমে ফুঁটিয়ে তোলা হবে। শুধু তাই নয়, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিও গ্রাফিতিতে তুলে ধরছেন তারা। এসময় দেয়ালে ‘দেশটা কারো বাপে না, রাগ করলা?’, ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’, ‘স্বাধীনতা এনেছি, সংস্কারও আনবো’, ‘জুলাই আমার অহংকার’সহ বিভিন্ন স্লোগান পুনর্লিখন করতে দেখা যায়। এসব অংকনে অংশগ্রহণ করা আদিবা ইবনাত নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, জুলাই অনেকগুলো প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া অর্জন। এটি আমাদের অহংকার এবং অনুপ্রেরণার আন্দোলন। বর্তমান সরকার যদি গ্রাফিতি মুছে ফেলে, তবুও আমাদের হৃদয়ে জুলাই থেকে যাবে। আমরা আশা করি, সরকার এটি করবে না, কারণ একটা বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত, নিপীড়ন, নির্যাতন ও শোষণমুক্ত নতুন বাংলাদেশের জন্য তারাও তো জুলাই আন্দোলন করেছে। আমরা জুলাই কখনোই ছেড়ে দেব না। আরেক শিক্ষার্থী ও জাতীয় ছাত্রশক্তির কর্মী বলেন, চট্টগ্রামের ঘটনাটি নিন্দনীয়। গ্রাফিতি আঁকতে যাওয়া আমাদের এক বোনকে পুলিশ শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে। রংপুরে এমন ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু বিভিন্নভাবে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ কেউ জুলাই গ্রাফিতিগুলো নষ্ট করার চেষ্টা করেছে। আমরা সেই গ্রাফিতিগুলোতে পুনর্লিখন ও আংকন করছি। রংপুর মহানগর জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতি বলেন, জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি ও শিক্ষার্থীদের শিল্পকর্ম মুছে ফেলার অপচেষ্টা ইতিহাসকে বিকৃত করার শামিল। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, মানুষের বাকস্বাধীনতাকে জুলাই আন্দোলনের আগে ও পরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যার প্রতিচ্ছবি গ্রাফিতি ও দেয়াল লিখন। আমরা চাই না, এসব মুছে ফেলে কিংবা আঁকতে বাধা দিয়ে পুরনো ফ্যাসিবাদী শোষণ ব্যবস্থায় এই সরকার ফিরে যাক। একটা বৈষম্যমুক্ত ইনসাফের বাংলাদেশই আমরা দেখতে চাই। এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির রংপুর মহানগর কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জামিল হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মুহম্মদ রাজিমুজ্জামান হৃদয়, যুগ্ম সদস্য সচিব ফারহান তানভীর ফাহিম, মেহেদী হাসান মীম, সংগঠক সাদিয়া ইসলাম অন্যন্যা, জাকারিয়া জিওন, বিজয় সুমন, সদস্য মিজানুর মুন্না প্রমুখ। জাতীয় ছাত্রশক্তি ছাড়াও রংপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থী ও জুলাইযোদ্ধারা চট্টগ্রামের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই পুলিশি হামলার প্রতিবাদে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বিকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রাফিতি আঁকতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে প্রতিবাদ সমাবেশ ও গ্রাফিতি অংকন কর্মসূচি পালন করার কথা রয়েছে।