July 29, 2026, 6:31 pm
শিরোনাম:
শান্তিগঞ্জে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত পটিয়ায় আজ থেকে ১০ দিনব্যাপী নারী উদ্যোক্তা ও বিক্রয় মেলা শুরু চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ফটিকছড়ির ডেভিড ইমন যশোর থেকে গ্রেপ্তার! গঙ্গাচড়ায় গর্তে রাস্তার বেহাল অবস্থা, দ্রুত সংস্কারের দাবি গাইবান্ধায় আড়াই বছর ধরে আটকে রয়েছে ৭টি সেতুর কাজ, ৪টি সেতুর কাজ শুরু হয়নি রামগতিতে পানির লাইন খুঁড়তে মিলল তিনটি মর্টার শেল সদৃশ বস্তু নীলফামারীতে র‍্যাব-১৩ এর উদ্যোগে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সুধী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দিনাজপুর পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ে “নাগরিক ভাবনাঃ আমাদের করণীয়” শীর্ষক নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের নবনিযুক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আকরাম এলাহী মাদকবিরোধী অভিযানে কৃতিত্বের স্বীকৃতি, সম্মানিত রাঙ্গামাটি পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন আলমগীর

ক্ষেপণাস্ত্র, ইউরেনিয়াম ও হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে নারাজ ইরানিরা

নিউজ পাওয়ার ২৪ ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরানের সামরিক শক্তি নিয়ে মতামত দিয়েছেন দেশটির নাগরিকরা। তারা ক্ষেপণাস্ত্র, ইউরেনিয়াম ও হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে রাজি নন।

ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি) গবেষণা কেন্দ্রের দেশব্যাপী জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।

এতে দেখা গেছে, ইরানের জনগণ তাদের সামরিক সক্ষমতা, জাতীয় ঐক্য এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা শক্তি অক্ষুণ্ণ রাখার বিষয়ে দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছে। যুদ্ধ চলাকালীন এবং তা শেষ হওয়ার পরপরই দেশজুড়ে হাজার হাজার মানুষের ওপর পরিচালিত এই জরিপে দেখা যায়, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ উত্তরদাতা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ চরমপন্থি শর্ত মেনে কোনও চুক্তি বা স্থায়ী যুদ্ধবিরতি গ্রহণ করা উচিত নয়।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের বিশাল অংশ মনে করেন, এমন কোনও চুক্তি গ্রহণ করা উচিত নয়, যা ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পে বিধিনিষেধ আরোপ করবে, ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ করবে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ জাহাজ চলাচল কিংবা প্রতিরোধ ফ্রন্টের সঙ্গে সহযোগিতা বন্ধের মতো শর্ত থাকবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কোনও উসকানি ছাড়াই শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, শীর্ষ সামরিক কমান্ডার এবং সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো হয় হামলা। এরই প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে প্রায় ১৭০ জন স্কুলশিক্ষার্থীসহ বহু মানুষ নিহত হন। ইরানের নেতৃত্বকে দুর্বল করা এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্যে শুরু হওয়া এই আগ্রাসন শেষ পর্যন্ত উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির দুর্বলতা প্রকাশ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিরোধ অক্ষের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানও এতে সামনে আসে।

টানা ৩৯ দিনের এই সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবকে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে এবং ইসলামাবাদে আলোচনা শুরু হয়। তবে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ে। ইরান দাবি করছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এখন যুক্তরাষ্ট্রকেই ছাড় দিতে হবে।

ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক অধিকারে ছাড় নয়
স্থায়ীভাবে যুদ্ধ শেষ করার শর্ত নিয়ে জরিপে প্রশ্ন করা হলে জনগণ সুস্পষ্টভাবে তাদের অবস্থান তুলে ধরে। ৮৫ দশমিক ৭ শতাংশ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পে কোনো বিধিনিষেধ মানতে রাজি নন, ৮২ দশমিক ৬ শতাংশ ইরানি ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণের বিপক্ষে, ৭৯ দশমিক ৪ শতাংশ জনগণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের বিরোধিতা করেন এবং ৭৩ দশমিক ৭ শতাংশ জনতা হরমুজ প্রণালীতে অবাধ জাহাজ চলাচলের বিপক্ষে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল ইরানি সমাজের গভীরে কৌশলগত পরিপক্বতার প্রতিফলন। সাধারণত যুদ্ধের চাপ মানুষকে যেকোনো মূল্যে শান্তির দিকে ঠেলে দেয়, কিন্তু এখানে তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে। জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের জনগণ জাতীয় শক্তিকে কোনো দরকষাকষির উপাদান নয়, বরং ‘সম্মান ও স্বাধীনতার প্রতীক’ হিসেবে দেখেন। তাদের কাছে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা হারানো মানে ভবিষ্যৎ আগ্রাসনের পথ উন্মুক্ত করে দেয়া।

যুদ্ধবিরতি কার বেশি প্রয়োজন
কোন পক্ষের যুদ্ধবিরতি বেশি প্রয়োজন, এই প্রশ্নের উত্তরে ইরানি জনগণ একটি সুস্পষ্ট রায় দিয়েছে। জরিপে দেখা যায়, উত্তরদাতাদের ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ মনে করেন, যুদ্ধবিরতির প্রয়োজন যুক্তরাষ্ট্রেরই বেশি ছিল। মাত্র ৯ দশমিক ৮ শতাংশ মনে করেন ইরানের প্রয়োজন বেশি, আর ২৯ শতাংশ উভয় পক্ষের প্রয়োজন ছিল বলে মত দেন।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, এই ফলাফল জনমতে সুবিধাজনক সাফল্য নির্দেশ করে। এটি এমন একটি আখ্যানের আধিপত্য নির্দেশ করে যা ইরানের সফট ও হার্ড পাওয়ারকে একটি কার্যকর প্রতিরোধক হিসেবে মূল্যায়ন করে। আর জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৬৬ শতাংশ মনে করেন, ৪০ দিনের এই যুদ্ধে ইরানই বিজয়ী হয়েছে। জরিপে দেখা যায়, ৮৭ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ দেশটির সামরিক বাহিনীর পারফরম্যান্সকে ‘শক্তিশালী বা অত্যন্ত শক্তিশালী’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, নাগরিকদের মনে এই আস্থা তৈরি হওয়াই প্রতিরোধ শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

আধুনিক যুদ্ধনীতিতে, জাতীয় ইচ্ছাশক্তি ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এবং ড্রোন সক্ষমতার পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। যখন শত্রু এমন একটি সমাজের মুখোমুখি হয়, যে সমাজ শুধু সামরিক হুমকিকে ভয়ই পায় না, বরং তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর দৃঢ় আস্থা রাখে, তখন যেকোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ গ্রহণের লাভ-ক্ষতির হিসাব মৌলিকভাবে বদলে যায়। জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই স্তরের জনসমর্থন আঞ্চলিক সমীকরণে ইরানের কূটনৈতিক ও সামরিক ব্যবস্থার কৌশলগত ক্ষমতাকে নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দেয়।

অর্ধেকের বেশি মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ
জরিপ অনুযায়ী, ৪৫ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ যুদ্ধ চলাকালে এবং পরে রাতের সমাবেশ ও গাড়িবহরে অংশ নেন। আরও ১৩ দশমিক ২ শতাংশ অন্তত এক-দুবার অংশগ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ, অর্ধেকের বেশি জনগণ কোনও না কোনওভাবে সংহতি প্রকাশ করেছেন। এর অর্থ হলো, দেশের অর্ধেকেরও বেশি জনগোষ্ঠী সশস্ত্র বাহিনী এবং নেতৃত্বের প্রতি সংহতি প্রদর্শনের কোনও না কোনও ধরনের প্রকাশ্য কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল আবেগ নয়, বরং সচেতন জনগণের কৌশলগত অংশগ্রহণের প্রতিফলন।

জরিপে ৭১ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন, যুদ্ধের পর দেশের ভবিষ্যৎ আরও উন্নত হবে। আর মাত্র ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ পরিস্থিতি খারাপ হবে বলে মনে করেন। এছাড়া যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ৬৭ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ রাতের সমাবেশ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।

জাতীয় দৃঢ়তার প্রতিচ্ছবি
সব মিলিয়ে জরিপে উঠে এসেছে একটি দৃঢ় ও স্থিতিশীল জাতির চিত্র, যারা যুদ্ধের পর আরও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এই ফলাফল শত্রুপক্ষের ‘অভ্যন্তরীণ পতন’ ধারণাকে স্থায়ীভাবে অকার্যকর করে দিয়েছে। সমীক্ষাটি দেখায় যে, যখন একটি সামরিক সংকটের চরম মুহূর্তে সমাজের ৮০ শতাংশেরও বেশি মানুষ তাদের প্রযুক্তিগত এবং প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা বজায় রাখার ওপর জোর দেয়, তখন সেই সমাজ স্বাধীনতার মূল্য ভালোভাবে বুঝতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন, ‘সামাজিক প্রতিরোধ’ এখন ইরানের সামরিক সক্ষমতার পর তার জাতীয় শক্তির দ্বিতীয় স্তর হিসেবে কাজ করছে। এটি আন্তর্জাতিক আলোচনায় দেশটির কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করে। গবেষণার ফলাফল এই দাবিকেই সমর্থন করে যে, ইরানের কর্তৃত্বের ভিত্তি অবকাঠামোর কংক্রিট ও ইস্পাতে প্রোথিত নয়, বরং এমন এক জনগোষ্ঠীর সামষ্টিক বিশ্বাস এবং কৌশলগত আস্থা ও আশায় নিহিত, যারা ইতিহাসের ঘোর অন্ধকারেও এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে লক্ষ্য স্থির রেখেছে। সূত্র: প্রেস টিভি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *