June 19, 2026, 10:03 am
শিরোনাম:
টঙ্গীতে সুন্দরীর ফাঁদে ফেলে চাঁদাবাজি: হানিট্র্যাপ চক্রের ২ নারীসহ ৩ সদস্য গ্রেফতার সর্বস্তরে বাংলা ভাষা শুদ্ধ বানানে ও শুদ্ধ উচ্চারণে কর্মশালা অনুষ্ঠিত পটিয়া গাউছিয়া তাহেরীয়া সুন্নীয়া মাদ্রাসা উদ্যোগে শোহাদায়ে কারবালা মাহফিল ড. মো. মন্জুরুল কাদির বারি’র নতুন মহাপরিচালক সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি পেলেন মুহাম্মদ নিজাম উদ্দীন নরসিংদীর শিবপুরে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এর সহকারী প্রধান শিক্ষকের মৃতদেহ উদ্ধার টাঙ্গাইলের সাবেক মন্ত্রীর পুত্র ড. জগলুর রহমান খানের কুলখানি অনুষ্ঠিত মধ্যযুগীয় কায়দায় বাড়ির গৃহকর্মীকে শারীরিক ও পাশবিক নির্যাতন,খুলনায় পুলিশ দম্পতির বিরুদ্ধে ফুলছড়িতে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন পালিয়ে বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিষপান, খুলনায় হাসপাতালে নবদম্পতি

নিষেধাজ্ঞা না মঞ্জুর/পাউবো কলোনীতে উচ্ছেদ অভিযান

শাহরিয়ার কবির,পাইকগাছা (খুলনা) থেকে:

দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা ও দখলদারিত্বের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পাইকগাছায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এর অফিস কলোনীতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আদালত নিষেধাজ্ঞার আবেদন নাকচ করার পর প্রশাসনের উপস্থিতিতে ১১টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়।
জানা যায়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের খুলনা জেলার পাইকগাছা উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর অফিস কলোনীর মধ্যে পাউবোর চাকরিরত অবস্থায় জলিল, মফেজ, রশিদসহ ১১টি পরিবার অস্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে তারা অবসর গ্রহণ ও মৃত্যুবরণ করলেও তাদের পরিবার কলোনীর ভেতরেই অবস্থান করতে থাকে। এতে কলোনীর পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
এ বিষয়ে স্থানীয় কর্মকর্তারা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করলে অবৈধ দখল উচ্ছেদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী পাইকগাছা উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রিফাত বিন রফিক নির্বাহী প্রকৌশলী-২ এর মাধ্যমে খুলনা জেলা প্রশাসকের কাছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আবেদন করেন।
উচ্ছেদের খবর পেয়ে ওই ১১টি পরিবার পাইকগাছা উপজেলা সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলা দায়ের করে। তবে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত নিষেধাজ্ঞার আবেদন নাকচ করে দেন।
এরপর জেলা প্রশাসনের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বীকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বুধবার দুপুরে তাদের উপস্থিতিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এক্সকাভেটর (বেকু) মেশিন ব্যবহার করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রিফাত বিন রফিক, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোতালেব হোসেন, এসও শরীফ আহম্মেদ ও সার্ভেয়ার দিলীপ কুমার চক্রবর্তীসহ সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফজলে রাব্বী জানান, সকল নিয়ম-কানুন মেনে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এদিকে, দখলমুক্ত হওয়ায় এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এদিকে, উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন সময়ে বাতিখালী গ্রামের তারক চন্দ্র সানা অভিযোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার পূর্ব নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে। তিনি জানান, বাতিখালী মৌজার ২৬৯ নম্বর খতিয়ানের ১৪৫, ১৪৬ ও ১৪৭ নম্বর দাগে তারক, সুভাষ, বিধান, অসীম ও রবীন্দ্রনাথ সানাসহ ৫ জনের প্রায় সাড়ে ৬২ শতক জমি রয়েছে। উক্ত জমির দাখিলা পরিশোধসহ তাদের নামে বৈধ রেকর্ড রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে আদালতে একটি নিষেধাজ্ঞামূলক মামলাও বিচারাধীন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, সকল আইনগত প্রক্রিয়া ও বিধি-বিধান অনুসরণ করেই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।