June 21, 2026, 1:56 pm

কেন্দুয়ায় ঈদগাহ মাঠ ও মসজিদ নিয়ে দুই বংশের বিরোধ: রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা-

মোঃ সেলিম উদ্দিন

জামালপুর সদর ​১নং কেন্দুয়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের জালালেরপাড়া গ্রামে বেশ কিছুদিন ধরে চলে আসা সামাজিক সম্প্রীতিতে ফাটল ধরেছে। একটি মসজিদের ইমামের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মন্ডল বংশ ও আকন্দ বংশের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ এখন চরম উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে। বর্তমানে একটি পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের জন্ম দিতে পারে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জালালেরপাড়া গ্রামে মন্ডল ও আকন্দ বংশের মানুষ দীর্ঘকাল ধরে একই মসজিদ, মাদ্রাসা ও ঈদগাহ মাঠে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। ৪-৫ মাস আগে জুম্মার খুতবায় মসজিদের ইমামের একটি ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মন্ডল বংশের লোকজন প্রতিবাদ জানান এবং ইমামকে ক্ষমা চাইতে বলেন। ইমাম ক্ষমা না চাওয়ায় দুই বংশের মধ্যে পক্ষ-বিপক্ষ অবস্থান তৈরি হয়। পরবর্তীতে মসজিদ কমিটি ওই ইমামকে বহিষ্কার করে।

​অভিযোগ উঠেছে, ইমাম বহিষ্কারের পর ফুলবাড়িয়ায় বসবাসরত আকন্দ বংশের জনৈক মোঃ ওয়াজেদ আলী (৬২) গ্রামে এসে বিভেদ তৈরির চেষ্টা চালান। তার কুপরামর্শে ও নেতৃত্বে একদল উশৃঙ্খল লোক ঈদগাহ মাঠের ঠিক মাঝখানে (সেন্টার পয়েন্ট) একটি পৃথক মসজিদ নির্মাণ করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই বংশের দূরত্ব আরও বেড়ে যায়।

​মন্ডল বংশের লোকজনের দাবি, বর্তমান ঈদগাহ মাঠটি তৈরিতে তাদের আর্থিক অবদান সবচেয়ে বেশি। অথচ ওয়াজেদ আলী ও তার অনুসারীরা এখন পুরো ঈদগাহ মাঠটি আকন্দ বংশের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এমনকি মন্ডল বংশের লোকদের ঈদগাহ মাঠে প্রবেশ না করতে এবং নামাজ না পড়তে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

​প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে ওয়াজেদ আলীর নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গ্রামে মহড়া দিচ্ছে। এতে সাধারণ গ্রামবাসীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সামাজিক এই বিবাদ এখন রাজনৈতিক ও বংশীয় দাঙ্গার রূপ নেওয়ার উপক্রম হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং বড় ধরনের রক্তপাত এড়াতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা বলছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জালালেরপাড়া গ্রামের শান্তি চিরতরে বিঘ্নিত হতে পারে।