যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগঘন পরিবেশে ভাষা শহীদদের স্মরণে আজ ২১শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (শনিবার) মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
সকাল ৭টায় প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন ৩৬শে জুলাই চত্বরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতভাবে উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে সকাল ৯টা ১০ মিনিটে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকল সদস্য কালো ব্যাজ ধারণ করেন, যা ছিল বেদনাকে শক্তিতে রূপান্তরের এক প্রতীকী অঙ্গীকার।
সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি গৌরবময় প্রভাতফেরি প্রশাসনিক চত্বর থেকে বের হয়। শিক্ষক সমিতির সদস্য, পরিচালকবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাইমারি ও হাই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বৃহৎ অংশগ্রহণে প্রভাতফেরিটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
পৌনে ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথম পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ভাইস-চ্যান্সেলর। এরপর পর্যায়ক্রমে শিক্ষক সমিতি, শিক্ষকবৃন্দ, প্রাইমারি ও হাই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
পরবর্তীতে ছাত্রকল্যাণ পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরিফ রায়হানের সঞ্চালনায় পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে মহান মাতৃভাষার তাৎপর্য ও চেতনা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন ভাইস-চ্যান্সেলর, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সাইফুল ইসলাম আফরাদ, শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. নাসরিন আক্তার আইভী, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম, রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল্লাহ মৃধা এবং সিনিয়র শিক্ষক প্রফেসর ড. মো. আবু আশরাফ খান।
ভাইস-চ্যান্সেলর তাঁর বক্তব্যে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে “প্রেরণা ও সংগ্রামের চিরন্তন উৎস” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বাংলা ভাষাই বিশ্বের একমাত্র ভাষা যার জন্য মানুষ জীবন দিয়েছে এবং যা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ করেই মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে।
তিনি দেশপ্রেম, স্বাধীনতার চেতনা ও মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে নতুন করে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান।
দিবসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ-জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।