July 31, 2026, 11:45 am
শিরোনাম:
অক্ষারাম ব্রিজের সড়ককাজে অনিয়মের অভিযোগ: বক্তব্য নিতে গিয়ে এলজিইডি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে উত্তেজনা ডেভিড ইমন গ্রেপ্তারে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের বড় সাফল্য কড়া নিরাপত্তায় ১৯, বছর পর কলকাতায় পা রাখলেন বিতর্কিত বাংলাদেশের লেখক তসলিমা নাসরিন নরসিংদীতে কাকরোলের গ্রামে চাষিদের দুর্ভোগ দিনাজপুর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কর্তৃক ২০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ১ জন গ্রেফতার পাকিস্তানে কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, বাড়ছে লাশের পরিমান প্রশাসনিক স্থবিরতায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রোগীরা, অনিয়মের পাহাড় ভুলে স্বাক্ষর না করায় বেরোবিতে ভর্তির সুযোগ বঞ্চিত এক শিক্ষার্থী বাংলাদেশসহ ১৪ দেশকে নিয়ে সৌদির নতুন সমুদ্রকেন্দ্রিক সামরিক জোট ঘোষণা মানব পাচারকারীদের রুখতে সারা দেশে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে

ডেভিড ইমন গ্রেপ্তারে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের বড় সাফল্য

Reporter Name

গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তি ও ধারাবাহিক অভিযানে নেতৃত্বে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম

চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের চলমান সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য এসেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে পরিচয় পরিবর্তন, অবস্থান বদল ও বিভিন্ন কৌশলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলা ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং আন্তঃজেলা পুলিশের সমন্বিত অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এই অভিযানের সার্বিক সমন্বয় ও দিকনির্দেশনায় ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। জেলা পুলিশ বলছে, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবেই ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সরকারি কর্মকর্তাদের তালিকাতেও মো. মাসুদ আলমকে জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
যেভাবে গোয়েন্দা জালে ডেভিড ইমন
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ জুন চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের বিভিন্ন স্তর সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ শুরু করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ২২ জুলাই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, আদালতের অনুমতি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের অবস্থান ও সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে, যার মধ্যে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির মামলাও রয়েছে।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই তদন্ত ও পরবর্তী গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করে।
যশোরে শেষ হয় দীর্ঘদিনের পলাতক থাকার অধ্যায়
এরই ধারাবাহিকতায় ২৯ জুলাই যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ও যশোর জেলা পুলিশের সমন্বিত তৎপরতায় ডেভিড ইমনকে তার সহযোগীদের সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়। একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারের সময় তিনি ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশ আরও জানিয়েছে, তিনি সীমান্তপথে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে তাদের কাছে তথ্য ছিল।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেলেও, পুলিশ তাকে দীর্ঘদিনের আলোচিত অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
পুলিশের দাবি, চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম ইমন
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সক্রিয় ছিলেন। চাঁদাবাজি, অস্ত্রের ব্যবহার ও হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশের দাবি ছিল—বিদেশে অবস্থানরত চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে ইমন ও তার সহযোগীরা স্থানীয়ভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়।
গ্রেপ্তারের পর মিলছে অস্ত্রের সন্ধান
ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ৩০ জুলাই গভীর রাতে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশের দাবি, সেখানে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক মামলা করা হয়েছে।
এদিকে ২৬ জুলাই চট্টগ্রাম নগরীর অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের ওয়াজেদিয়া এলাকা থেকেও ডেভিড ইমনের দুই সহযোগীকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়। এসব অভিযানকে একই অপরাধী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে চলমান তৎপরতার অংশ হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
‘সন্ত্রাসী যে দল-মতেরই হোক, ছাড় নেই’
৩০ জুলাই চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, চট্টগ্রাম জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও সংঘবদ্ধ অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি স্পষ্টভাবে জানান, সন্ত্রাসী যে দল বা মতেরই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
পুলিশ সুপারের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জেলা পুলিশের বর্তমান অবস্থানও স্পষ্ট হয়েছে—অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির পরিচয় বা প্রভাব নয়, অপরাধের ভিত্তিতেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাসুদ আলমের নেতৃত্বে নজরদারি ও অভিযান জোরদার
ডেভিড ইমন গ্রেপ্তারের ঘটনাটি শুধু একজন আলোচিত অপরাধীকে আটক করার ঘটনা নয়; বরং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের গোয়েন্দা সক্ষমতা, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং আন্তঃজেলা সমন্বয়েরও একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ডেভিড ইমনের অবস্থান শনাক্ত করতে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তার গতিবিধি, যোগাযোগ এবং সম্ভাব্য পালানোর পথ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের পর যশোরে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা ছিল গুরুত্বপূর্ণ বলে জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান কোনো একক ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধ নির্মূলে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মাঠপর্যায়ের অভিযান একসঙ্গে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
সামনে আরও অভিযান
ডেভিড ইমন গ্রেপ্তারের পর তার সহযোগী, অস্ত্রের উৎস এবং পুরো অপরাধী নেটওয়ার্কের বিষয়ে আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের এই অভিযানের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের আলোচিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নতুন করে আশার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নেতৃত্বে চলমান অভিযান কতটা কার্যকরভাবে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *