June 11, 2026, 4:08 pm
শিরোনাম:
খুলনা মেডিকেলে চিকিৎসা অবহেলা ও অব্যবস্থাপনায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ: ক্ষুব্ধ স্বজনরা রংপুরে বিশ্বকাপ উন্মাদনার ঢেউ একসঙ্গে জন্মানো ৩ সন্তানের খাবার জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন বাবা গাইবান্ধার বড় মহানন্দপুর হামলা মামলা: আসামি গ্রেপ্তারে বিলম্বের প্রতিবাদে মানববন্ধন, জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি হকার উচ্ছেদ ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে জাতীয় কংগ্রেস অনুমতি ছাড়া হরমুজ অতিক্রমের চেষ্টা, দুটি জাহাজে হামলা চালাল ইরান অস্ট্রেলিয়ার লজ্জার শুরু- শূন্য রানেই ৩ উইকেট হামলার মুখে আকাশসীমা বন্ধ করল কুয়েত, নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ ইসরায়েলে মানবিক উস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ রাহুল কুমার পটিয়া প্রেস ক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কার্যকরী কমিটি গঠিত : সভাপতি নুর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সেলিম চৌধুরী

একসঙ্গে জন্মানো ৩ সন্তানের খাবার জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন বাবা

মো. মিজানুর রহমান, পটুয়াখালী

পটুয়াখালীর গলাচিপায় মো. রাসেল মোল্লা ও তার স্ত্রী মোসা. শারমীনের পরিবারে এক বিরল আনন্দের ঘটনা ঘটেছে। গত ২ মার্চ তাদের ঘর আলো করে একসঙ্গে জন্ম নেয় ৩টি নবজাতক সন্তান। নবজাতকদের নাম রাখা হয়েছে হাসান, হোসেন ও মিম।
তবে আনন্দের এই মুহূর্তের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কঠিন বাস্তবতার লড়াই। সীমিত আয়ের এই পরিবারটি বর্তমানে তিন নবজাতকের খাদ্য, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন পরিচর্যার ব্যয় বহন করতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এর আগে রাসেল-শারমীন দম্পতির রাইসা মনি নামে পাঁচ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তিন নবজাতকের জন্মের পর পরিবারে মোট সন্তানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারজনে— দুই ছেলে ও দুই মেয়ে।
মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে মুহম্মদ ইউসুফ মিয়া-জাহানারা স্মৃতি কমপ্লেক্সের প্রজেক্ট ইনচার্জ মুহম্মদ আতিকুর রহমান শাহীন নবজাতকদের এক মাসের প্রয়োজনীয় খরচ বহন করেছেন।
আতিকুর রহমান শাহিন জানান, “শিশুদের বাবা মো. রাসেল মোল্লা একজন অটোচালক। প্রতিদিনের আয়ের ওপর নির্ভর করেই চলে তার সংসার। কিন্তু একসঙ্গে তিন শিশুর জন্মের পর ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। আমি গত একমাসের প্রয়োজনীয় শিশুখাদ্য ক্রয় করার খরচ বহন করেছি।”
রাসেল মোল্লা বলেন, আমি অটো রিক্সা চালিয়ে যা আয় করি, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চলে। কিন্তু এই তিনটি বাচ্চার খরচ চালানো আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের গ্রামে বিদ্যুৎ থাকে না বললেই চলে। ফলে প্রতিদিন অটো চার্জ দিতে পারি না। যে দিন অটো চালাতে পারি না, সে দিন কোনো আয়ও হয় না। এখন শিশুদের দুধ ও চিকিৎসার খরচ বহন করা আমার জন্য খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
তিনি জানান, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নবজাতকদের জন্য প্রতিদিন ল্যাকটোজেন-১ দুধ প্রয়োজন হয়। একটি দুধের মূল্য প্রায় ৮৫০ টাকা। ফলে মাসে শুধু দুধের পেছনেই প্রায় ৩০ হাজার টাকার বেশি ব্যয় হচ্ছে, যা তার মতো একজন নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে বহন করা প্রায় অসম্ভব।

এদিকে শিশু ৩টির সুস্থ বৃদ্ধি ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পরিবারটি সমাজের বিত্তবান, মানবিক ব্যক্তি ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহযোগিতা কামনা করেছে।
সরাসরি যোগাযোগ ও সহায়তা:📞 ০১৩১০-০৭৪৬৫৫ (বিকাশ/নগদ)।
স্থানীয়রা জানান, অসহায় এই পরিবারটির পাশে সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে তিনটি নবজাতকের জীবনযাত্রা সহজ হবে এবং পরিবারটি নতুন করে আশার আলো দেখতে পাবে।