রাজবাড়ী উজান চরের চর কর্ণসোনা এলাকার হামেদ এর হাটে ওষুধ কিনতে গিয়ে নিখোঁজ মা ও শিশু কন্যার মাটিচাপা দেয়া মরদেহ ফরিদপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার ফরিদপুরের চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের যতীন বৈদ্যের পাড়ায় হাকিম মোল্লার পুকুর পাড় থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুকুর পাড়ে মাটি খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ চাপা দিয়ে কলাগাছ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। ১১ দিন আগে গত ৪ মে তারা নিখোঁজ হয়।
নিহতরা হলেন, রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার চর কর্ণসোনা গ্রামের আব্দুর রব শেখের ছেলে আমজাদ শেখের স্ত্রী জাহানা আক্তার ও তাদের তিন বছর বয়সী শিশু কন্যা সামিয়া আক্তার।
জাহানা আক্তার মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার তেঁওতা গ্রামের লালন মোল্লার মেয়ে। আমজাদ স্থানীয় একটি ইট ভাটার শ্রমিক। আমজাদ এর প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর জাহানাকে বিয়ে করে সে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয় কুলসুম বেগম নামের এক গৃহীনি পুকুর পাড়ে ছাগল চড়াতে এসে কয়েকটি কুকুরকে মাটি খুড়তে দেখেন। কাছে মাটিচাপা অবস্থায় মানুষের পা দেখে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন পুলিশকে জানায়।
আমজাদ এর পিতা আব্দুর রব জানান, গত ৪ মে বাড়ির অন্য সদস্যদের সাথে তার ভাগনে আলা খাঁ এর চল্লিশা অনুষ্ঠানে যায় জাহানা। ফেরার সময় অন্যদের বিদায় জানিয়ে শিশু কণ্যা সামিয়াকে নিয়ে ওষুধ কিনতে হামেদ খাঁর বাজারে যায়। এরপর আর বাড়ি ফিরে আসেনি। জাহানার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। খোজাখুজি করে না পেয়ে গোয়ালন্দ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে জাহানার স্বামী আমজাদ শেখ।
উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) জামাল মোল্লা জানান, আমজাদ ইটের ভাটায় কাজ করত। মাঝে মাঝে জাহানাও যেত সেখানে। ইটের ভাটায় উজ্জ্বল নামের এক ছেলের সাথে ঘনিষ্ঠতাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে ঝামেলাও হয়েছিল। তিনি জানান, মরদেহ উদ্ধারের স্থানের কাছেই সেই যুবকের বাড়ি। এ ঘটনার সাথে উজ্জ্বলের সম্পৃক্ততা আছে কিনা খতিয়ে দেখা দরকার।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আব্দুল্লাহ বিশ্বাস জানান, খবর পেয়ে দু’ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।