May 11, 2026, 2:21 pm
শিরোনাম:
গাইবান্ধায় গণশুনানী অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইলে প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধন ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের হেনস্তার প্রতিবাদে বাঁশখালীতে মানববন্ধন রামগতিতে নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নামমাত্র প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি টাকা লুটের অভিযোগ নির্বাচন কর্মকর্তা নিজেই ঠিকাদার নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬ শরীয়তপুর জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা সমাপ্ত নড়িয়ায় চরাঞ্চলের সুফলভোগীদের মাঝে প্রাণি বিতরণ পূবাইলে মুদি দোকানি কুলসুম হত্যা: রহস্য উন্মোচন, রংপুর থেকে আটক ৩ মোবাইলে গান বাজিয়ে মদ ও ইয়াবা সেবন: ভিডিও ভাইরাল, পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ২ বাংলাদেশ তৃণমূল সাংবাদিকদের  অধিকার  প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী সংগঠন সাংবাদিক ফোরাম (বিটিএসএফ) সুন্দরগঞ্জে জমি বদল না দেওয়ায় মিথ্যা মামলার অভিযোগ এক নি:সন্তান বৃদ্ধের

রামগতিতে নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নামমাত্র প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি টাকা লুটের অভিযোগ নির্বাচন কর্মকর্তা নিজেই ঠিকাদার

কবির হোসেন রাকিব, রামগতি -কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা নির্বাচন অফিসের সংস্কার ও টাইলস লাগানোর নামে ৫ লাখ টাকার একটি প্রকল্প লুটের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম ও সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তা হাফিজ উল্লার বিরুদ্ধে। নামমাত্র কাজ দেখিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাতের জন্য সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন এ দুই কর্মকর্তা। নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম ও হাফিজ নিজেরা ঠিকাদার সেজে প্রকল্পটির কাজ করাচ্ছেন।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সুত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অফিসটির সংস্কারের জন্য ৫ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়। কথা ছিল এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য দরপত্রের আহবান করতে হবে। নিয়মানুযায়ী ওই প্রকল্পের এস্টিমেট তৈরী করে বাস্তবায়নের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা। এস্টিমেট অনুযায়ী ঠিকাদার কাজ করবে। কিন্তু উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সেটা না করে কাগজে কলমে ২০ হাজার টাকা চুক্তিতে মেসার্স মাকছুদুর রহমান নামে একজন ঠিকাদারের লাইসেন্স ব্যবহার করে বরাদ্দের সমূদয় টাকা আগেই উত্তোলন করেন। পরে মোঃ মিলন নামে একজন রাজমিস্ত্রী দিয়ে তিনি তার মত করে ভবনের নিচতলায় কিছু টাইলস ও নামমাত্র ঘষামাজা করেন। এতে সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা খরছ হয়। বাকী টাকা হাতিয়ে নেন কর্মকর্তা রেজাউল ও হাফিজ। ঠিকাদার নিয়োগ না করে নির্বাচন কর্মকর্তা নিজেরাই ঠিকাদার হিসেবে প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন করেন।

সরেজমিনে গেলে রাজমিস্তুরী মোঃ মিলন বলেন, আমার কাছে কোন কাগজপত্র নেই। আমাকে নির্বাচন অফিসার টাইলস ও কিছু রং করার জন্য বলেছে। আমি সে অনুযায়ী কাজ করছি। কত টাকায় এ ভবন সংস্কারের কাজ সম্পন্ন হতে পারে এমন প্রশ্নের উত্তরে মিলন বলেন, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকায় কাজ শেষ করা যাবে। তবে এ সংক্রান্ত তথ্য দিতে নানা গড়িমসি করেন অভিযুক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা। প্রকল্পটি নিয়ে তিনি লুকোচুরি খেলায় মেতে উঠেন।

কাগজে কলমে দেখানো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাকছুদুর রহমান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোঃ মাকছুদুর রহমান বলেন, কয়েকজন সাংবাদিক নির্বাচন অফিসের চলমান কাজ দেখার পর তড়িঘড়ি করে অফিসটির কর্মকর্তা আমার লাইসেন্স ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করেছে। তার বিশেষ অনুরোধের প্রেক্ষিতে আমি আমার লাইসেন্স দেখিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে দিয়েছি।

অভিযুক্ত উপজেলা সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তা হাফিজ উল্লাহ বলেন, নিয়মানুযায়ী কাজ হচ্ছে। আমি এখন গাড়ীতে আছি, পরে কথা বলবো।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।