August 22, 2026, 2:46 am
শিরোনাম:
ময়মনসিংহে প্রতারণার অভিযোগে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি নাসির উদ্দিন আটক রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল লালমনিরহাট জেলায় চলছে একের পর এক ধর্ষণ প্রতিবেশী দাদা ভাই গ্রেফতার দেশে ফিরলেন সৌদিতে কোরআন প্রতিযোগীতায় জয়ী ৪ হাফেজ ইয়েমেন ও সোমালিয়া উপকূলে ২২ ভারতীয়সহ দুটি জাহাজ ছিনতাই  বঙ্গভবনে শপথ নিতে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ভালুকায় বসতবাড়িতে হামলা ভাঙচুর, থানায় অভিযোগ পটিয়ায় আঞ্জুমানে আশেকানে গাউসুল আজম সুলতানপুরীর জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী অনুষ্ঠিত শিবচরে শাম্পা হত্যা ও শিশু আবির নিখোঁজের রহস্য উদঘাটন: ঘাতক ফারুক গ্রেফতার, উদ্ধার হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ আলামত বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৮ পরিবারের মাঝে চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকার ঢেউটিন বিতরণ

বাঁকাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মের পাহাড়: শিক্ষক বেশি ছাত্র নেই, সরকারি টিফিন যাচ্ছে শিক্ষকের বাড়িতে

মোঃ সেলিম উদ্দিন জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুর মেলান্দহের ৭নং চরবানি পাকুরিয়ার বাঁকাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ চরমভাবে ভেঙে পড়েছে। প্রধান শিক্ষকের আদেশ উপেক্ষা করে সহকারী শিক্ষকদের খামখেয়ালি, দেরিতে স্কুলে আসা এবং সরকারি টিফিন আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।

​শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ও শিক্ষার মান: সরেজমিনে এবং এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা গেছে, বিদ্যালয়টিতে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা নামমাত্র। প্রতিদিন গড়ে মাত্র ২০ থেকে ২৫ জন ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত থাকে। প্রতিটি ক্লাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ৩ থেকে ৫ জন। চলতি বছরে পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষার্থী মাত্র ৩ জন। এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষার্থীর চেয়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংখ্যাই বেশি, কিন্তু পড়াশোনার কোনো উন্নতি নেই।

​অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে সহকারী শিক্ষকরা: স্থানীয়দের অভিযোগ, সহকারী শিক্ষকরা তাদের ইচ্ছামতো বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করেন এবং প্রধান শিক্ষকের কোনো তোয়াক্কা করেন না। নারী শিক্ষকদের বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা তাদের ছোট সন্তানদের স্কুলে নিয়ে আসেন এবং ক্লাসের অধিকাংশ সময় নিজের সন্তানদের সামলাতেই ব্যয় করেন। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

​সরকারি টিফিন নিয়ে নয়ছয়: সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে সরকারি বরাদ্দের টিফিন নিয়ে। বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আসা দুধ, বিস্কুট, রুটি এবং ডিম শিক্ষকরা নিয়মিত বাড়িতে নিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ২৭ পিস ডিম সহকারী শিক্ষকরা ভাগাভাগি করে বাড়িতে নিয়ে যান এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভোজন করেন।

​শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: এসব বিষয়ে গণমাধ্যম কর্মীরা কথা বলতে চাইলে সহকারী শিক্ষকরা দম্ভের সাথে জানান, টিফিন বেশি হলে তারা মাঝেমধ্যে বাড়িতে নিয়ে যান এবং পথচারীদেরও বিলিয়ে দেন। তবে সরকারি সামগ্রী ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের কোনো আইনি ভিত্তি তারা দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে, নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, “টিফিন উদ্বৃত্ত হলে সহকারী শিক্ষকরা তা কী করেন বা কোথায় নেন, সে সম্পর্কে আমি বিস্তারিত কিছু বলতে পারব না।” তার এমন দায়সারা বক্তব্যে খোদ প্রধান শিক্ষকের প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা।

​হুমকির মুখে ভবিষ্যৎ: একটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন নৈরাজ্য চলতে থাকায় এলাকার সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ বন্ধ এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।