খুলনা সদর থানা এলাকায় এক গৃহবধূকে এলোপাতাড়ি মারধর, শ্লীলতাহানি, স্বর্ণের চেইন ছিনতাই এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল ১৫ জুলাই (বুধবার) সকালে ২নং কাষ্টম গলি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মাহমুদা আক্তার শারমিন (৩৪) বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শারমিনের ভাসুর আলমগীর হোসেন (৪২) তাদের পৈত্রিক সূত্রের বাসার নিচতলায় জোরপূর্বক মোঃ মাসুদ পারভেজ রানা (৩৮) নামের এক ব্যক্তিকে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসাতে চান। কিন্তু রানা পূর্বে শারমিনকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দেওয়ায় এবং ঘর নির্মাণ বাবদ ভাসুর আলমগীরের নিকট শারমিনের প্রায় ৭০ হাজার টাকা পাওনা থাকায়, তিনি এই ভাড়ার বিষয়ে আপত্তি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আলমগীর ও রানা ভুক্তভোগীর ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন।
এরই ধারাবাহিকতায়, গতকাল সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে বাসা ভাড়ার বিষয়টি নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মাসুদ পারভেজ রানা, তার স্ত্রী রুবিনা এবং মামাতো বোন কারিনা মিলে শারমিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা গৃহবধূকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে। মারধরের সময় ভুক্তভোগীর গলায় থাকা আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর মাসুদের বাবা মোঃ আবুও ভুক্তভোগীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
অভিযোগে আরও জানা যায়, অভিযুক্ত মাসুদ পারভেজ রানা নিজেকে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ লোক দাবি করে প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করার দম্ভোক্তি প্রকাশ করেন। একই সাথে এই বিষয়ে কোনো আইনি পদক্ষেপ নিলে ভুক্তভোগীকে কুপিয়ে মেরে ফেলার (প্রাণনাশের) হুমকি দেওয়া হয়।
বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই ঘটনায় খুলনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।