দীর্ঘ ১০ দিন টানা বর্ষণের ফলে খুলনা মহানগরীর অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো পানিতে তলিয়ে ছিল। বিশেষ করে খুলনা পিটিআই মোড়, আহসান আহমেদ রোডের পুরোটাই, রয়েলের মোড় , শান্তিধাম মোড় ,ফেরিঘাট মোড়, সাত রাস্তার মোড় , মিস্ত্রিপাড়া বাজার, দোলখোলার মোড় সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো একটু ভারী বৃষ্টি হলে এক থেকে দু ফুট পানিতে তলিয়ে থাকে, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে কেসিসির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পরেও পানি সরবরাহের সঠিক কোন পন্থা খুঁজে পাচ্ছেন না খুলনা সিটি কর্পোরেশন। ইতিমধ্যে কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু দফায় দফায় নিজ উদ্যোগে সরজমিনে ঘুরে ঘুরে দেখেছেন, এবং যে সকল ড্রেনের কাজ চলমান তাদেরকে জরুরি তলব দিয়ে কাজ শেষ করে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি নগরবাসীকে ময়লা আবর্জনা যেখানে সেখানে না ফেলার সবিনয় অনুরোধ জানিয়েছেন। ডেভেলপার কোম্পানি গুলোকে বৃষ্টির মৌসুমে নির্মাণসামগ্রী যেখানে সেখানে না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে পরিবেশবিদরা বলছেন নদীর নব্যতা হারিয়ে যাওয়ার কারণে জোয়ারের সময় অধিক পরিমাণে পানি নগরীতে প্রবেশ করে, আর ঠিক সেই সময় বৃষ্টি হলে বাড়তি পানি সরবরাহের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। ফলে মহানগরীর অধিকাংশ নিচু স্থানগুলো তলিয়ে যায়। সিটি কর্পোরেশন মহানগরীর বেশ কয়েকটি রাস্তা নতুন করে উঁচু করার কারণে সে এলাকায় পানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় না। সিটি কর্পোরেশনের ইচ্ছা থাকার পরও রাস্তা উচু করাতে অনেক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছু এক কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন পুরাতন বাড়িগুলো রাস্তা উঁচু করার ফলে নিচ তলায় একেবারে অকেজো হয়ে যাচ্ছে যার জন্য বাড়ির মালিকরা চায়না রাস্তা উচু হোক। তবে পর্যায়ক্রমে সিটি কর্পোরেশনের নিচু রাস্তা গুলো উঁচু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। নাগরিক নেতারা বলছে সিটি কর্পোরেশনের আরো অধিকতর উদ্যোগ নেওয়া উচিত, তা না হলে একসময় খুলনা মহানগরী বৃষ্টির মৌসুমে অকেজো হয়ে পড়বে।