গাইবান্ধা সদর উপজেলার কিশামত বালুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকজ খেলা ‘পাতা খেলা’। প্রামানিক ট্রেডার্সের সৌজন্যে এবং স্থানীয় যুব সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এ খেলার ফাইনাল শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।
ঐতিহ্যবাহী এ খেলা দেখতে গাইবান্ধা সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন, শহর ও দূর-দূরান্তের এলাকা থেকে কয়েক হাজার দর্শকের সমাগম ঘটে। ঢোলের তালে, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশে দর্শকরা উপভোগ করেন গ্রাম বাংলার হারিয়ে যেতে বসা এই প্রাচীন খেলা।
পাতা খেলা গ্রামীণ লোকসংস্কৃতির একটি ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন। স্থানীয় নিয়ম অনুযায়ী এ খেলায় বিভিন্ন দল অংশগ্রহণ করে। খেলার মাঠের মাঝখানে একজন ‘ফুলিয়া’ ঢোল বাজিয়ে খেলার আবহ তৈরি করেন। অংশগ্রহণকারী দলগুলো নির্ধারিত নিয়ম ও লোকজ কৌশলের মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এ খেলায় প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিজয়ী দল নির্বাচন করা হয়।
প্রকৌশলী শামীম প্রামানিক বাদলের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত এ খেলাকে ঘিরে এলাকায় উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়। আয়োজকরা জানান, গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতিকে ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করে তুলতেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে।
খেলা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আলতাফ হোসেন, গাইবান্ধার বিশিষ্ট সমাজকর্মী প্রকৌশলী শামীম প্রামানিক বাদল, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ইউনুস আলী খান দুখু, প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম, শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম, শিক্ষক মাহমুদুল হাসান সবুজসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
প্রকৌশলী শামীম প্রামানিক বাদল বলেন, খেলাধুলা মানুষের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধরে রাখতেও এ ধরনের আয়োজন প্রয়োজন। তরুণ সমাজকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখা গেলে তারা মাদক ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ফুটবল, ক্রিকেটসহ আধুনিক খেলার পাশাপাশি পাতা খেলার মতো ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোও আমাদের সংস্কৃতির অংশ। এসব আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরা সম্ভব।
ফাইনাল খেলা শেষে অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। প্রথম স্থান অধিকারী দলকে দেওয়া হয় একটি ৩২ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন, দ্বিতীয় স্থান অধিকারী দলকে দেওয়া হয় একটি রাজহাঁস এবং তৃতীয় স্থান অধিকারী দলকে দেওয়া হয় একটি মোবাইল ফোন।
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে এ ধরনের ব্যতিক্রমী আয়োজন অব্যাহত রাখা হবে।