পাইকগাছায় রিংকু সরদার (২৭) মৃত্যু-র পর একমাত্র শিশু কন্যা প্রজ্ঞার ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে! মায়ের শুন্যতায় অবুঝ শিশু শুধু কান্নায় ভেঙে পড়ছে, আর আকাশ পানে চেয়ে-চেয়ে মা-কে খুঁজে দিন পার করছে। অকালে মা হারা শিশু-র এখন উপজেলার সোলাদানাস্থ আমুরকাটায় মামার বাড়িতে আশ্রয় হয়েছে।
এদিকে প্রজ্ঞার ছোট দাদু নিতিশ সরকারের আক্ষেপ অতি আদরের ভাইজি রিংকুর মৃত্যুর ১ সপ্তাহ হলেও পাষান্ড স্বামী নিবারণ তার কন্যা সন্তানেরও কোন খোঁজ-খবর রাখেনি। তিনি অভিযোগ করেন, ভাইজি রিংকু’র মৃত্যুর ৩ মাস পুর্বে মেয়ের উপর নানা ভাবে চাপ সৃষ্টি করে নিবারণ আড়াই লক্ষ টাকা নেয়। এছাড়া বিয়ের সময় তো গত ২০০১৭ সালে জামাই-মেয়ে দু’জনের হাতের আংটি, কানের দুল ও গলার চেইন সব মিলে ২ ভরি ১০ আনা স্বর্ণালোংকার দেওয়া হয়।
রিংকুর পিতা উপানন্দ সরকার ও তার পরিবারের অভিযোগ ঘটনার রাতে চলতি ২ জুলাই রাত ১১ টার পর নিবারণ বাইনবাড়ীয়া পুলিশ ক্যাম্প এলাকা থেকে বাড়ীতে আসে। তাদের ধারণা মেয়ে ঘরের দরজা খুলতে দেরি হলে ক্ষিপ্ত হয়ে হয়ত শ্বাসরোধ করে মেরে বাড়ীর গরুর গোয়ালের আড়ায় গলায় রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখে! খবর পেয়ে পরের দিন সকালে বাইনবাড়ীয়া ক্যাম্প পুলিশ লাশ উদ্ধার করেন৷ সুরতহাল রিপোর্ট সম্পন্ন করে ময়না তদন্তের জন্য মৃতদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় ৩ জুলাই থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়, যার নং-২২।
এ মামলাটি তদন্ত করছেন স্থানীয় ক্যাম্প পুলিশের আইসি।
নিহত রিংকুর পরিবার সুত্র জানান, বিয়ের পর থেকে পাষান্ড নিবারণ মোবাইল ও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। নানা অজুহাতে মেয়ের উপর শারিরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতো। মাঝে মধ্যে প্রতিবেশি ও আত্মীয় স্বজনদের হস্তক্ষেপে দাম্পত্য কলহের সুরাহা করার চেষ্টা করত। সর্বশেষ স্বামীর অত্যাচারে রিংকু শেষ বারের মত ৮ বৈশাখ বাপের বাড়ি চলে আসতে বাধ্য হয়। কিছুদিন যেতে না যেতেই তার শ্বশুর কৃষ্ণপদ সরদার ও শ্বাশুড়ির ডাকে আবারোও স্বামীর সংসারে চলে আসে।
রিংকু’র মৃত্যু বিষয়ে শ্বশুর বাড়ির বিস্তর অভিযোগের বিষয়ে স্বামী নিবারণের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে বাইনবাড়ীয়া পুলিশ ক্যাম্পের আইসি এসআই খায়রুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিনেই আমি ক্যাম্পে যোগদান করেছি। তিনি আরোও জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে জেনেছি নিবারণ তার স্ত্রী’কে প্রায় সময় মারধর করত।
তবে পর্বের বিদায়ী ওসি বলেছেন, এটা আত্মহত্যা না হত্যাকান্ডের ঘটনা তা নিশ্চিত হতে হলে ময়না তদন্তের রিপোর্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।