শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, অপুষ্টিজনিত মৃত্যুঝুঁকি হ্রাস এবং সুস্থ-সবল জাতি গঠনের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২৮ জুন) সকাল ১০টায় বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উপজেলার মোট ৩৬১টি কেন্দ্রে একযোগে এ কর্মসূচি শুরু হয়। এ বছর ক্যাম্পেইনের আওতায় উপজেলার ৭৭ হাজার ৩০০ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. সাইফুল আমিন, জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. মোহাম্মদ মুবিনুল হক, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মুনির উল্লাহ, মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ইমতিয়াজ উদ্দীন, ডা. শামীমা আক্তার, ডা. রাশেদুল ইসলাম, বাঁশখালী থানার ওসি (তদন্ত) সুধাংশু শেখর হাওলাদার, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ছৈয়দ আকবর, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, এমটি (ইপিআই) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্টরা।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমা আক্তার বলেন, উপজেলার ৩৬১টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ৭৭ হাজার ৩০০ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। তিনি আরও জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে হামের টিকা ও অ্যান্টি স্নেক ভেনম (সাপের কামড়ের প্রতিষেধক) পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।
অনুষ্ঠান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন বিভাগ, আউটডোর, ইনডোর, ইএনটি ও আই কেয়ার সেন্টার পরিদর্শন করেন। তিনি হাসপাতালের সেবার মানে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আই কেয়ার সেন্টারে নিজের চোখও পরীক্ষা করান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অপুষ্টিজনিত বিভিন্ন জটিলতা প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর। তাই নির্ধারিত বয়সী প্রতিটি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক ও অস্থায়ী বুথে দিনব্যাপী এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, জাতীয় পুষ্টিসেবা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে পরিচালিত এ কর্মসূচি সফল করতে স্বাস্থ্যকর্মী, জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক, শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। পাশাপাশি কোনো শিশু যেন এ সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়।