June 29, 2026, 2:22 pm
শিরোনাম:
বাঁশখালীতে প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও প্রাথমিক শনাক্তকরণ জোরদারে সিডিডির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত স্টার্টআপ সায়েন্স প্রজেক্ট ইনোভেশনে জাতীয় পর্যায়ে সেরা দশে গলাচিপা এনজেড আলিম মাদ্রাসা বাঁশখালীতে ৩৬১টি কেন্দ্রে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন, ৭৭ হাজার ৩০০ শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য জাজিরায় মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত মাদক দ্রব্য অধিদপ্তরের অভিযানে২০৩ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার-০১ জিয়ানগরে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচিতে বৃক্ষরোপণ ময়মনসিংহে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত চৌদ্দগ্রামে প্রেমিকার ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত -আটক ২ সাধনপুর ইউপি নির্বাচন: চেয়ারম্যান পদে হারুন মোল্লাকে ঘিরে ভোটারদের প্রত্যাশা ভিলেজ হেলথ ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের বাঁশখালী উপজেলা শাখার বার্ষিক সাংগঠনিক সভা ও সাইন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত

বাঁশখালীতে প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও প্রাথমিক শনাক্তকরণ জোরদারে সিডিডির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম,বাঁশখালী চট্টগ্রাম

প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ, দ্রুত উপযুক্ত সেবা প্রদান এবং সমাজের মূলধারায় তাদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে “স্ট্রেন্দেনিং আর্লি আইডেন্টিফিকেশন অ্যান্ড আর্লি ইন্টারভেনশন ফর দ্য চিলড্রেন উইথ ডিজএ্যাবিলিটিজ (ইআইইআই)” প্রকল্পের নীতিসংক্ষেপ, প্রধান অর্জন, শিক্ষণীয় দিক এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন ২০২৬) জেএসইউএস-আরডিটিসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভার আয়োজন করে সেন্টার ফর ডিজএ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি)। অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে যুগান্তর সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (জেএসইউএস) এবং অর্থায়ন করে লিলিয়ানা ফন্ডস (এলএফ)।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেএসইউএস-এর ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা এবং পরিচালক জনাব সাঈদুল আরেফিন। মূল উপস্থাপনায় ছিলেন সিডিডি মূল কার্যালয় হতে এডভোকেসি এবং ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অফিসার জনাবা তায়েফা বিনতে তাহের। তিনি প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া, অর্জিত সাফল্য, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, নীতিগত সুপারিশ এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য একটি সমন্বিত ও টেকসই সেবাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনার করেন ইআইইআই প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার রাজেশ রতন মল্লিক।
তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের জীবনের শুরুতেই সঠিকভাবে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, পুনর্বাসন, শিক্ষা ও পারিবারিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে তাদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ উল্লেখযোগ্যভাবে ত্বরান্বিত হয়। একই সঙ্গে পরিবার ও সমাজের মধ্যে প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে ওঠে।
আলোচনা সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান- স্বাস্থ্য, কৃষি, প্রাণিসম্পদ, শিক্ষা, গণমাধ্যম এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ডাঃ শামীম আক্তার, মাইজপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুজিনা আক্তার, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ শওকতুজ্জামান, প্রাণিসম্পদ বিভাগের ডাঃ সুপন নন্দী, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কর্মকর্তা মোঃ এনামুল করিম, উপজেলা কৃষি বিভাগ কর্মকর্তা উৎপল দাশগুপ্ত, ৫নং কালীপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রিপন বড়ুয়া, কৃষিবিদ মোঃ মোস্তফা, সাংবাদিক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, এপেক্স বডির প্রতিনিধি মো. ইয়াছিন, ৫নং বৈলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পিংকু পুরহিত, কেয়ারার মুর্তাজা বেগম, প্রকল্প সমন্বয়ক ম্যাপইনসিবিআর জনাব আব্দুল মুনেমসহ প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের যত দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে, তত দ্রুত তাদের জন্য কার্যকর চিকিৎসা, পুনর্বাসন, শিক্ষা ও সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা যাবে। এজন্য স্বাস্থ্য বিভাগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, উন্নয়ন সংস্থা এবং কমিউনিটির সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বক্তারা আরও বলেন, প্রতিবন্ধিতা কোনো অভিশাপ নয় বরং যথাসময়ে সঠিক পরিচর্যা, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে প্রতিবন্ধী শিশুরাও সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। তাই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি সকল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় ও সচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রতিবন্ধী শিশুদের উন্নয়নে আরও কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়ন, আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার এবং স্থানীয় পর্যায়ে সেবার পরিধি সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা এ ধরনের উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমূলক উল্লেখ করে প্রতিবন্ধী শিশুদের অধিকার, মর্যাদা এবং সমঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।